আনোয়ারায় ২য় শ্রেণির শিশুকে পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে ধর্ষণ, হাতেনাতে ধর্ষক গ্রেফতার

0
আনোয়ারায় ২য় শ্রেণির শিশুকে পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে ধর্ষণ, হাতেনাতে ধর্ষক গ্রেফতার

চট্টগ্রাম ব্যুরোঃ চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বাড়ির উঠানে খেলার সময় আট বছর বয়সী দ্বিতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ফুসলিয়ে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। এই পৈশাচিক কাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আরমান হোসেন (২৫) নামের এক যুবককে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা।

গত সোমবার (১ জুন) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার চাতরী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে এই ঘটনাটি ঘটে। গ্রেফতারকৃত আরমান স্থানীয় বাসিন্দা মো. হারুনের ছেলে।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে আর দশটা দিনের মতোই বাড়ির উঠানে সমবয়সী শিশুদের সঙ্গে খেলছিল ওই শিশুটি। এ সময় ওত পেতে থাকা প্রতিবেশী বখাটে যুবক আরমান হোসেন শিশুটিকে কৌশলে ফুসলিয়ে নির্জন একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটির ওপর চালানো হয় পাশবিক নির্যাতন।

কিছুক্ষণ পর ওই পরিত্যক্ত ঘর থেকে শিশুটির কান্নাকাটি ও চিৎকারের আওয়াজ পেয়ে প্রতিবেশীদের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। তারা দ্রুত শব্দ লক্ষ্য করে পরিত্যক্ত ঘরটির দিকে ছুটে যান। স্থানীয়রা ঘরের দরজা ধাক্কা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখতে পান শিশুটি রক্তাক্ত ও রক্তাক্ত অবস্থায় কাতরাচ্ছে।

এ সময় অপরাধের আলামত লুকিয়ে ঘর থেকে কৌশলে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করছিল অভিযুক্ত আরমান। কিন্তু উপস্থিত জনতা চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। পরে উত্তম-মধ্যম দিয়ে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। অন্যদিকে, গুরুতর ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভুক্তভোগী শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

এই মর্মান্তিক ও ন্যক্কারজনক ঘটনায় রাতেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে আনোয়ারা থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে আরমানকে।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, “খবর পাওয়ার পরপরই আমাদের টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে লম্পট আরমানকে জনতা কর্তৃক অবরুদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে গ্রেফতার দেখায়। নির্যাতিত শিশুটির মা থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করেছেন। শিশুটির সুচিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই ন্যাক্কারজনক অপরাধের পেছনে অন্য কোনো ইন্ধন বা আক্রোশ ছিল কিনা, তা সুক্ষ্মভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

এদিকে, শান্ত চাতরী ইউনিয়নে প্রকাশ্য দিবালোকে এমন পাশবিকতার ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। অবুঝ শিশুর ওপর এই নির্মম নির্যাতনের দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় আপামর জনসাধারণ।