আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় শক্তিশালী ভূমিকম্প-পরবর্তী তুষারধস ও ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯৮ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন বিভিন্ন দেশের শত শত পর্যটক। নেপাল পুলিশের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে চাপা পড়ে থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নেপাল পর্যটন বোর্ডের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৬১ জন নেপালি নাগরিক এবং ৩৪১ জন বিদেশি পর্যটকসহ মোট ৪০৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ২০০ জন নারী ও ২০৩ জন পুরুষ। ২৬টি ভিন্ন দেশের পর্যটক এই দুর্যোগের কবলে পড়েছেন। ভারত ১৩৩ জন, যুক্তরাষ্ট্র ৪৭ জন, যুক্তরাজ্য ৩৩ জন, অন্যান্য দেশ ১৩১ জন
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানান, রাজধানী কাঠমান্ডুর উত্তরে অবস্থিত রসুয়া ও নুয়াকোট জেলায় ভোটকোশী নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে সবচেয়ে বেশি আঘাত হেনেছে এই বন্যা। প্রাথমিক ভূমিকম্পের পর তুষারধস শুরু হয়, যা পরবর্তীতে বিধ্বংসী বন্যায় রূপ নেয়। নেপালের পাশাপাশি চীনের তিব্বত অঞ্চলও ‘ব্যাপক ক্ষতির’ সম্মুখীন হয়েছে।
এ ঘটনায় অঞ্চলের প্রধান প্রধান মহাসড়ক, বেশ কয়েকটি সেতু ও গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ধ্বংস হয়ে গেছে। নেপাল সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র জানান, ২০১৫ সালের প্রলয়ঙ্কারী ভূমিকম্পের (যাতে প্রায় ৯,০০০ মানুষ মারা যান) পর এটিই নেপালের সবচেয়ে ভয়াবহ বিপর্যয়। তিনি উল্লেখ করেন, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ‘কল্পনার অতীত’।
নেপাল সেনাবাহিনী দুর্যোগকবলিত এলাকায় উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার ও বিশেষ বাহিনী মোতায়েন করেছে। সীমান্তের উভয় পাশেই চীন ও নেপাল কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে যৌথ অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলছে।
নেপালের এই চরম মানবিক বিপর্যয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বাংলাদেশের জনগণ ও সরকার নেপালের এই কঠিন সময়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে। একই সাথে, নেপালে দ্রুত ত্রাণ সামগ্রী পাঠানো ও জরুরি উদ্ধার কাজে যেকোনো সহায়তা দিতে বাংলাদেশ পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

