উঠে গেল স্টেডিয়ামের রাস্তার কার্পেটিং রাজশাহী বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ

0
উঠে গেল স্টেডিয়ামের রাস্তার কার্পেটিং রাজশাহী বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ

রাজশাহী প্রতিনিধিঃ সামান্য বৃষ্টিতেই উঠে যাচ্ছে নতুন রাস্তার কার্পেটিং। কোথাও কার্পেটিংয়ের নিচে মিলছে না খোয়া বা পাথরের স্তর; মাটির ওপর ডুমার বালুর সঙ্গে বিটুমিন মিশিয়েই কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। গ্যালারির রংয়েও মিলেছে অনিয়মের অভিযোগ। এসবের পর রাজশাহী বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সংস্কারকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

রাজশাহী নগরীর তেরোখাদিয়ায় অবস্থিত স্টেডিয়ামটির রং, নতুন রাস্তা নির্মাণ ও পুরোনো রাস্তা সংস্কারে প্রায় ২ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) তত্ত্বাবধানে চলছে এসব কাজ। মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, স্টেডিয়ামের প্রধান প্রবেশপথের রাস্তা সংস্কারের পরপরই বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গেছে। রাজশাহী বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব ও বিসিবির কাউন্সিলর মোজাদ্দেদ জামানী রাস্তার কার্পেটিং আঁচড়ে দেখান কার্পেটিং এর নিচে খোয়া বা পাথরের অস্তিত্ব নেই। তাঁর দাবি, মাটির ওপর ডুমার বালুর সঙ্গে বিটুমিন মিশিয়ে কার্পেটিং করা হয়েছে।

মোজাদ্দেদ জামানী বলেন, এনএসসি’র প্রকৌশলীদের মাধ্যমে কাজটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নিম্নমানের কাজের বিষয়টি জানালে তাঁদের পক্ষ থেকে বিষয়টি গণমাধ্যমে না জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, দিনের কাজ রাতে করা হলে মান নিশ্চিত করা কঠিন। ডুমার বালু দিয়ে কার্পেটিং করার অভিযোগের তদন্ত দাবি করেন তিনি। স্টেডিয়ামের ভেন্যু ব্যবস্থাপক সাইফুল্লাহ খান জেম বলেন, কাজের মান নিয়ে আপত্তির বিষয়টি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমানকে জানানো হয়েছিল। কাজের ছবিও পাঠানো হয়েছে। তবে তখন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ক্রীড়া পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, স্টেডিয়ামের ভেতরে নতুন আরসিসি রাস্তা নির্মাণ এবং সামনের পুরোনো রাস্তা সংস্কারের কাজ ১ কোটি ৮০ লাখ টাকায় পেয়েছে সুবর্ণা এন্টারপ্রাইজ। আর রং করা ও গ্যালারিতে শৌচাগার নির্মাণের কাজ পেয়েছে দেশবন্ধু এন্টারপ্রাইজ।

সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার রেজাউল কবির বলেন, গত শনিবার সন্ধ্যার আগে রাস্তার কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ করা হয়। এর কিছুক্ষণ পর বৃষ্টি হলে কয়েকটি স্থানে কার্পেটিং উঠে যায়। তবে ডুমার বালু ব্যবহার করে কার্পেটিং করার অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

এদিকে স্টেডিয়ামের গ্যালারির রংয়ের কাজেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে কোথাও রং করা, কোথাও রং না করা অবস্থায় দেখা গেছে। আবার কিছু স্থানের রং ইতিমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে। সীমানাপ্রাচীর রং করতে আসা শ্রমিকদের কাছে শিডিউলে নির্ধারিত ব্র‍্যান্ডের পরিবর্তে অন্য কোম্পানির রং পাওয়ার পর তাঁদের কাজও বন্ধ করে দেওয়া হয়। রংমিস্ত্রি ফিরোজ ইসলাম বলেন, শিডিউলে বার্জার রং ব্যবহারের কথা থাকলেও তাঁদের অন্য কোম্পানির রং সরবরাহ করা হয়েছিল। তাই তাঁরা সেটিই ব্যবহার করছিলেন।

অভিযোগের বিষয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান নিম্নমানের কাজের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ঠিকাদারদের এখনো বিল দেওয়া হয়নি। কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য তাঁদের চাপ দেওয়া হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ ঠিক হয়ে যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) এ বি এম এহছানুল মামুন বলেন, নিম্নমানের কাজের অংশগুলো ঠিক করে প্রতিবেদন দিতে প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

প্রায় দুই কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া স্থাপনার সংস্কারে এ ধরনের অভিযোগ ওঠায় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, তদন্তের মাধ্যমে কারিগরি মান, ব্যবহৃত উপকরণ এবং কাজের পরিমাণ যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।