ইতালি প্রবাসীর ৩ কোটি টাকা ও ২৫ ভরি স্বর্ণ নিয়ে ভাগলেন স্ত্রী, তালাক না দিয়েই পরকীয়া প্রেমিককে বিয়ে!

0
ইতালি প্রবাসীর ৩ কোটি টাকা ও ২৫ ভরি স্বর্ণ নিয়ে ভাগলেন স্ত্রী, তালাক না দিয়েই পরকীয়া প্রেমিককে বিয়ে!

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃ লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে দীর্ঘ ২২ বছরের সংসার, চার সন্তান এবং ইতালির সুপ্রতিষ্ঠিত জীবন ফেলে রেখে পরকীয়া প্রেমিককে বিয়ে করার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। স্বামী প্রবাসে থাকা অবস্থায় প্রথম বিয়ে বিচ্ছেদ (তালাক) না দিয়েই দ্বিতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন মুন্নি আক্তার জেসমিন নামের এক নারী। শুধু দ্বিতীয় বিয়েই নয়, প্রবাসে থাকা স্বামী জাকির হোসেনের কষ্টার্জিত ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ও ব্যাংক কার্ডের মাধ্যমে প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় আজ বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে ভুক্তভোগী প্রবাসী জাকির হোসেনের বোন মারুফা বেগম বাদী হয়ে রায়পুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালে উপজেলার চরমোহনা ইউনিয়নের উত্তর রায়পুর এলাকার আলী হায়দারের ছেলে জাকির হোসেনের সাথে সোনাপুর ইউনিয়নের চরবগা গ্রামের নুর উদ্দিনের মেয়ে মুন্নি আক্তার জেসমিনের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বর্তমানে তাঁদের চার সন্তান রয়েছে। ২০০৯ সালে জাকির কঠোর পরিশ্রমে স্ত্রীকে ইতালিতে নিয়ে যান।

অভিযোগে বলা হয়, ইতালিতে থাকাকালীন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মুন্নি বাংলাদেশের একাধিক যুবকের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। রায়পুর উপজেলার বামনী ইউনিয়নের পূর্ব কাঞ্চনপুর এলাকার বাসিন্দা সৌরভ হোসেন চুট্টু নামের এক যুবকের সাথে তাঁর নিবিড় ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। এ নিয়ে দম্পতির মধ্যে চরম কলহ শুরু হয়।

প্রায় দুই মাস আগে বাবার শারীরিক অসুস্থতার কথা বলে দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ইতালিতে থাকা স্বামী জাকিরকে না জানিয়ে তড়িঘড়ি করে দেশে ফেরেন মুন্নি। দেশে আসার পর থেকেই তিনি প্রবাসী স্বামীর সাথে সব ধরনের যোগাযোগ ও সম্পর্ক ছিন্ন করেন। পরবর্তীতে কোনো আইনি তালাক বা বিচ্ছেদ প্রক্রিয়া ব্যতিরেকেই পরকীয়া প্রেমিক সৌরভ হোসেন চুট্টুকে বিয়ে করেন মুন্নি। অভিযোগ মতে, ইতালি থেকে আসার সময় তিনি স্বামীর জমাকৃত ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার এবং ব্যাংকের এটিএম কার্ড ও নগদে প্রায় ৩ কোটি টাকা সাথে নিয়ে আসেন।

অভিযোগকারী ও প্রবাসীর বোন মারুফা আক্তার বলেন, “আমার ভাই ইতালিতে দিনরাত পরিশ্রম করে সংসার গুছিয়েছেন। মুন্নি তাকে আইনিভাবে কোনো তালাক না দিয়েই পরকীয়া প্রেমিককে বিয়ে করেছেন। আমার ভাইয়ের কষ্টার্জিত ৩ কোটি টাকা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করতে মুন্নির বাবার বাড়ির লোকজনও তাকে সহযোগিতা করেছে। এই প্রতারণার কারণে আমার চার ভাগনে-ভাগনি নিঃস্ব ও অসহায় হয়ে পড়েছে। আমার ভাইও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। আমরা এর কঠোর ও সুষ্ঠু বিচার চাই।”

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মুন্নি আক্তার জেসমিন টাকা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের বিষয়টি অস্বীকার করলেও আইনি তালাক ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, “ইতালিতে থাকাকালীন জাকির আমাকে প্রায়ই শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতো। সেই নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বাধ্য হয়ে আমি তাকে ছেড়ে অন্য একজনকে বিয়ে করেছি। আমি কোনো টাকা বা স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করিনি।”

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, “ইতালি প্রবাসীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”