বীরত্ব ও শিক্ষার আলো ছড়িয়ে চিরনিদ্রায় উস্তার আলী আখঞ্জী

0
বীরত্ব ও শিক্ষার আলো ছড়িয়ে চিরনিদ্রায় উস্তার আলী আখঞ্জী

তাহিরপুর প্রতিনিধি : বীরত্বের গৌরব আর শিক্ষার আলো ছড়িয়ে জীবনের দীর্ঘ পথচলা শেষে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক প্রধান শিক্ষক উস্তার আলী আখঞ্জী, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বেলা ১১টা ২০ মিনিটে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।তাঁর মৃত্যুতে পরিবার,স্বজন, সহকর্মী, সাবেক শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

উস্তার আলী আখঞ্জী ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক প্রধান শিক্ষক।মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করার পাশাপাশি কর্মজীবনে শিক্ষকতা পেশায় থেকে অসংখ্য শিক্ষার্থীর মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিয়েছেন।একজন শিক্ষক ও মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে তাঁর অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তাঁর মৃত্যুতে স্বজনদের মাঝে নেমে এসেছে শোকের মাতম।দীর্ঘদিনের পরিচিতজন,সহকর্মী ও সাবেক শিক্ষার্থীরা হারিয়েছেন একজন শ্রদ্ধেয় অভিভাবক ও প্রিয় শিক্ষককে। তাঁর চলে যাওয়া পরিবার-পরিজনের জন্য যেমন অপূরণীয় ক্ষতি, তেমনি তাঁর শিক্ষার্থী ও গুণগ্রাহীদের জন্যও তৈরি করেছে গভীর শূন্যতা।

মরহুম উস্তার আলী আখঞ্জীর প্রথম সন্তান সাংবাদিক শামসুল আলম আখঞ্জী টিটু বাবার মৃত্যুতে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন,বাবাকে হারানোর এই শূন্যতা কোনোদিন পূরণ হওয়ার নয়। তিনি ছিলেন আমাদের পরিবারের ছায়া, আমাদের পথ দেখানোর মানুষ।আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর আদর্শ,শিক্ষা ও স্মৃতিগুলো আমাদের হৃদয়ে আজীবন বেঁচে থাকবে। আমি সকল ধর্মপ্রাণ মুসলমানের কাছে আমার বাবার রুহের মাগফিরাতের জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া চাই।

তিনি আরও বলেন,আমার বাবার জীবদ্দশায় চলার পথে যদি কারও মনে কোনো কষ্ট দিয়ে থাকেন, কারও সঙ্গে কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকে কিংবা অনিচ্ছাকৃত কোনো আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন—তাহলে একজন সন্তান হিসেবে আমি সবার কাছে বিনয়ের সঙ্গে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আপনারা দয়া করে তাঁকে ক্ষমা করে দেবেন। আপনাদের ক্ষমা ও দোয়া এই কঠিন সময়ে আমাদের পরিবারের জন্য অনেক বড় সান্ত্বনা।

শামসুল আলম আখঞ্জী টিটু বলেন,আপনাদের সবার কাছে আমার একটাই অনুরোধ—আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন। মহান আল্লাহ যেন তাঁর জীবনের সকল ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে দেন, কবরকে নূরে ভরে দেন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করেন। আমিন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা উস্তার আলী আখঞ্জীর ইন্তেকালে তাঁর পরিবার,আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী, সাবেক শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে গভীর শোক বিরাজ করছে। তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবন, মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় স্মৃতি এবং শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন তাঁকে ভালোবাসা মানুষজন।

মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করা হয়েছে।আল্লাহ তায়ালা তাঁর সকল ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য দান করুন।আমিন, ইয়া রাব্বাল আলামিন।