বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সংকট ও বিশ্ববাজারে অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব অবশেষে এসে পড়ল দেশের জ্বালানি খাতে। সার্বিক আমদানি ব্যয় সামাল দিতে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি একলাফে ২০ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই নতুন মূল্যছাড়ের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (রবিবার দিবাগত রাত ১২টা) থেকেই এই বর্ধিত দর কার্যকর হয়েছে।
সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী লিটারপ্রতি তেলের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ডিজেল ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৬৫ টাকা
প্রজ্ঞাপনে বিস্তারিত মূল্য কাঠামোর ব্যাখ্যা দিয়ে জানানো হয়, লিটারপ্রতি কর-উত্তর এক্স-রিফাইনারি (Ex-refinery) মূল্য ধরা হয়েছে ডিজেলের ক্ষেত্রে ১২৩.৫৮ টাকা, কেরোসিনে ১৪৩.৭৮ টাকা, অকটেনে ১৪৯.৭৮ টাকা এবং পেট্রোলে ১৪৪.৯৯ টাকা। এই মূল্যের সাথে ব্যবসায়ী পর্যায়ের মূল্যসংযোজন কর (মূসক/VAT), বকেয়া শুল্ক পরিশোধন, বিপণন কোম্পানির মার্জিন, পরিবহন ভাড়া এবং ডিলার ও এজেন্টদের কমিশন যুক্ত করে ভোক্তা পর্যায়ের এই চূড়ান্ত খুচরা মূল্য নির্ধারিত হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে তেলের দর ও জাহাজ ভাড়া দ্বিগুণ বা তারও বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) চরম আর্থিক সংকটে পড়েছিল।
গত মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত টানা পাঁচ মাস দাম অপরিবর্তিত রাখতে গিয়ে বিপিসির লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২,৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকায়। শুধু ডিজেলেই দৈনিক প্রায় ১০৯ কোটি টাকার বেশি লোকসান গুনতে হচ্ছিল।
পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে তেলের দাম তুলনামূলক কম থাকায় সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি পাচারের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল। উদাহরণস্বরূপ, ভারতের কলকাতায় ডিজেলের দাম প্রতি লিটার প্রায় ১৩৪.৭৬ টাকা এবং মিয়ানমার, নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় ১৬০ থেকে ১৮০ টাকার ওপর রয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে, জ্বালানি ডিপোর প্রথম ৪০ কিলোমিটার সীমানার বাইরে সড়কপথে ট্যাংকলরীযোগে তেল পরিবহনের জন্য ২০২৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর জারীকৃত নির্ধারিত ভাড়ার নীতিই বহাল থাকবে।
তবে পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে পণ্য পরিবহন ও গণপরিবহন ভাড়ায় সরাসরি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা সার্বিক বাজারে মূল্যস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।

