কলাপাড়া প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বালিয়াতলী-মিঠাগঞ্জ দুই ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া হাড়িপাড়া থেকে বৌদ্ধপাড়া পর্যন্ত স্বনির্ভর খাল পুন:খননের কাজ শেষ হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে কৃষকের মাঝে।
দীর্ঘ ৪৫ বছর পর যেন প্রাণ ফিরে পেল খালটি। মৃত প্রায় খালটিতে আবারও শুরু হয়েছে পানির প্রবাহ। এতে নতুন করে আশার আলো দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা। একই সঙ্গে বালিয়াতলী বাজারসহ আশপাশের বাণিজ্যিক কেন্দ্র গুলোতে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড আরও গতিশীল হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে খালের খনন শেষে দুই পাড়ে ফলদ ও বনজ বৃক্ষ রোপন করে লাল সবুজ রংয়ের প্লাষ্টিকের বেড়া দিয়ে দৃষ্টিনন্দন করা হয়েছে ।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, খনন কৃত খালের মোট দৈর্ঘ্য ১৪৫০ মিটার, খালের উপরিভাগ ২২ মিটার, নীচ ১২ মিটার। খাল খননে মোট খরচ হয় ১,১৪,০৫,২৭৯ টাকা।
স্থানীয় জ্যেষ্ঠ বাসিন্দারা জানান, ১৯৮১ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পটুয়াখালীর কলাপাড়া সফরে এসে এ স্বনির্ভর খালটি খনন করেছিলেন। ৪৫ বছর আগের খনন করা সেই খাল দখল, দূষণ ও পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় শুস্ক মৌসুমে মিঠা পানির অভাবে দুই ইউনিয়নের প্রায় ৫ হাজার একর জমি অনাবাদি পড়ে থাকতো। লবণ পানিতে মারা যেত শত শত হাঁস-মুরগি ও গবাদি পশু। এতে কর্মহীন হয়ে পড়তো কৃষক। এখন খনন প্রকল্প বাস্তবায়নে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মোকছেদুল আলম বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পটুয়াখালীর কলাপাড়া সফরে এসে এ স্বনির্ভর খালটি খনন করেছিলেন। আমরা খালের ১৪৫০ মিটার অংশে পুন:খননের কাজ বাস্তবায়ন করেছি। বাকি অংশের খনন কাজ করার জন্য এমপি মহোদয় ডিউ লেটার দিয়েছেন। বরাদ্দ পেলে কাজ শুরু করা হবে।
মিঠাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন খান দুলাল ও ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি মো. মনিবর রহমান খন্দকার বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ এ খাল পুন:খননের দাবি করে আসছিল এলাকার মানুষ। কিন্তু বিগত ১৫ বছরে খাল খননের পরিবর্তে উল্টো দখল হয়েছে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এবিএম মোশাররফ হোসেন এমপি বলেন , বর্তমান সরকার কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের জন্য তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে চলছে। আমার নির্বাচনী এলাকার কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে আরও কিছু খাল পুন:খননের প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে।

