ফুলবাড়ী প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে এক ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে রিকশা চালকের বসতঘরসহ চারটি গবাদিপশু ভস্মিভূত হয়েছে। তবে প্রাণে বেঁচে গেছেন প্রতিবন্ধী বৃদ্ধা জবেদা বেওয়া (৮০)। অগ্নিকান্ডে দুই লাখ টাকার সম্পদ পুড়ে গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে, গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের পূর্বরাজারামপুর আদর্শ কলেজপাড়া গ্রামের মৃত নছির উদ্দিনের ছেলে রিকশা চলক খোকন ইসলামের বাড়ীতে। অগ্নিকান্ডে বসতঘরসহ একটি গর্ভবর্তী গাভী, একটি বকনা বাছুর ও দুইটি ভেড়া ভস্মিভূত হয়েছে।
ফুলবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা জানান, গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে খোকন ইসলাম তার রিকশা নিয়ে ফুলবাড়ী পৌরশহরে ছিলেন এবং তার স্ত্রী ও সন্তান প্রতিবেশির বাড়ীতে বিয়ের অনুষ্ঠানে যায়। বাড়ীতে ছিলেন শুধুমাত্র খোকন ইসলামের বৃদ্ধা প্রতিবন্ধী মা জবেদা বেওয়া। বাড়ীতে হঠাৎ আগুনের ফুলকি দেখে প্রতিবেশিরা এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এবং বৃদ্ধা জবেদা বেওয়াকে উদ্ধার করে অন্যত্র সরিয়ে নেন। নিমিশেই আগুন দ্রæত ছড়িয়ে পড়লে তার বসতঘর ও গোয়ালঘরে থাকা চারটি গবাদিপশু ভস্মিভূত হয়। তবে ধারনা করা হচ্ছে একটি বৈদ্যুতির সর্ট সার্কিট থেকে এই আগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয়েছে।
খবর পেয়ে আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌরসভার প্রশাসক এএসএম শাহাদাত হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে নগদ অর্থসহ খাদ্যসামগ্রী প্রদান করেন। এ সময় শিবনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ছামেদুল ইসলাম মাস্টার, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান ফিজারসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
ফুলবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের (ভারপ্রাপ্ত) স্টেশন ইনচার্জ লিডার উপেন্দ্রনাথ রায় বলেন, প্রায় ৩০ মিনিট চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভ হয়েছে। অগ্নিকান্ডে প্রায় দুই লাখ টাকার সম্পদ পুড়ে গেছে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
ইউপি চেয়ারম্যান ছামেদুল ইসলাম মাস্টার বলেন, “বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। আপাতত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে কিছু শুকনো খাবার এবং নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে। আগামীতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে আরো সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ হাছান বলেন, ঘটনাটি জানার পরই এসিল্যান্ডকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে শুকনো খাবার ও কম্বর প্রদান করা হয়েছে। জেলায় প্রতিবেদন পাঠানো হচ্ছে, বরাদ্দ এলে সে অনুযায়ী পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

