রাণীনগর প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগরে ইসলামী এজেন্ট ব্যাংকের দুই কর্মকর্তাকে মারধর করে ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যাংকের তিন কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ও লুট হওয়া টাকার মধ্যে ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। অনলাইন জুয়ায় প্রায় ৮ লাখ টাকা লোকসানের পর সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ব্যাংকের টাকা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন ব্যাংকের তিন কর্মকর্তা-কর্মচারী।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম।
পুলিশ জানায়, আবাদপুকুর ইসলামী এজেন্ট ব্যাংক শাখার ঋণ কর্মকর্তা সুজন (২৭), কর্মকর্তা আবু তালেব (২২) ও অফিস সহকারী রাসেল বাবু (২২) দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ায় জড়িয়ে প্রায় ৮ লাখ টাকা লোকসানে পড়েন। এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তাঁরা প্রায় এক মাস আগে ব্যাংকের টাকা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন। পরে স্থানীয় অপরাধ চক্রের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর দুপুরে আবাদপুকুর ইসলামী এজেন্ট ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক নাজমুল হক ও অফিস সহকারী রাসেল বাবু বগুড়ার সান্তাহার থেকে ৩৪ লাখ টাকা নিয়ে মোটরসাইকেলে করে শাখায় ফিরছিলেন। পথে আবাদপুকুর-আদমদীঘি সড়কের পারইল সেতু এলাকায় একটি মোবাইল টাওয়ারের কাছে পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলে থাকা হেলমেট পরা চার ব্যক্তি সামনে ও পেছন থেকে তাঁদের ওপর হামলা চালান। এ সময় মারধর করে টাকাভর্তি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যান তাঁরা।
পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার সময় রাসেল বাবু ব্যবস্থাপকের সঙ্গে থাকলেও তিনি পরিকল্পিতভাবে নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন করেন। পাশাপাশি ছিনতাইকারীদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন। ছিনতাই হওয়া টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা ব্যাংকের তিন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পাওয়ার কথা ছিল। বাকি টাকা চক্রের অন্য সদস্যদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
ঘটনার পর আবাদপুকুর ইসলামী এজেন্ট ব্যাংক শাখার স্বত্বাধিকারী ফিরোজ হোসেন বাদী হয়ে ওই রাতেই রাণীনগর থানায় মামলা করেন। ছিনতাইকারীদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার ও টাকা উদ্ধারে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ এবং রাণীনগর থানা পুলিশের সমন্বয়ে দুটি দল গঠন করা হয়।
পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রথমে পারইল বিশিয়া গ্রাম থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলটির মালিক রাব্বী আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ৭ অক্টোবর রাতে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানা এলাকা থেকে ছিনতাইয়ে সরাসরি জড়িত বিশিয়া গ্রামের আবদুল জব্বারের ছেলে স্বপন (২৮) এবং একই গ্রামের ওয়াজেদ আলীর ছেলে হাসান আলীকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে ব্যাংকের ঋণ কর্মকর্তা সুজন, কর্মকর্তা আবু তালেব ও অফিস সহকারী রাসেল বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম আরও জানান, এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে শনাক্ত করা হয়েছে। ছিনতাই হওয়া বাকি টাকা উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

