তাবারক হোসেন আজাদ: লক্ষ্মীপুরে অনভিজ্ঞ ধাত্রীর অবহেলায় এক নবজাতকের মৃত্যু এবং প্রসূতী মাকে মূমুর্ষ অবস্থা হাসপাতালে ভর্তির ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) প্রসূতীর স্বামী মো. সহিদুল ইসলাম রনি বাদি হয়ে দাত্রি আলেয়া বেগমের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৫ জনকে আসামী করে লক্ষ্মীপুর থানায় এ অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্ত আলেয়া বেগম সদর উপজেলার দালাল বাজার তালতলা এলাকার শাহাবুদ্দিনের স্ত্রী। অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, গত ২৬ আগস্ট দুপুরে সদর উপজেলার সমসেরাবাদ এলাকার সহিদুল ইসলাম রনির অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী নুর নাহার প্রিয়ার প্রস্রব বেদনা উঠে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রসূতীকে প্রথমে লক্ষ্মীপুর মা ও শিশু কেন্দ্রে এবং পরে দালাল বাজার মা ও শিশু কেন্দ্রে নেওয়া হয়। কিন্তু দু’টি চিকিৎসা কেন্দ্রেই কোন চিকিৎসক নেই। এ সুযোগে ধাত্রী আলেয়া বেগম গর্ভপাত করে দেওয়ার কথা বলে ওই প্রসূতিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে ইনজেকশন দিয়ে প্রসুতিকে অচেতন করে পেলে। এতে পেটের ভেতরেই নবজাতক চটপট করে মৃত্যু হয়। এতেও ক্ষন্ত হয়নি ধাত্রী আলেয়া বেগম। প্রসূতির পেট থেকে মৃত নবজাতক জোরপুর্বক প্র¯্রব করাতে গিয়ে নবজাতকের কিছু অংশ প্রসূতির পেটে রয়ে যায়। এছাড়াও প্রসূতির প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরে স্বজনরা মূমুর্ষ অবস্থায় ওই প্রসুতিকে শহরের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এছাড়াও অভিযুক্ত ধাত্রী আলেয়া বেগম সদর উপজেলার মধ্য বাঞ্চানগর গ্রামের আরিফ হোসেনের স্ত্রী শিল্পী আক্তার ও একই গ্রামের রুনু আক্তারসহ একাধিক নারীকে একই কায়দায় গর্ভপাতের নামে ইনজেকশন পুষ করে নবজাতক মেরে পেলার অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় অভিযুক্ত দাত্রি মোটা অংকের অর্থও আত্মসাত করেন বলে অভিযোগ সূত্রে জানা যায়। এসব ঘটনায় অভিযুক্ত ধাত্রী আলেয়া বেগমের শাস্তি দাবী করেন ক্ষতিগ্রস্থরা। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ধাত্রী আলেয়া বেগম জানান, প্রসূতির অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে হাসপাতালে নিতে স্বজনদের পরামর্শ দেই। কিন্তু তারা আমাকেই গর্ভপাত করাতে বলায় আমি করেছি। এতে আমার অপরাধ কোথায়? এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মামলার আইয়ু এসআই আবুল বাসার জানান, দাত্রির অবহেলায় প্রসূতির গর্ভে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। তদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

