
বিমল কুন্ডু : সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের সড়াতৈল গ্রামের সোহেল রানার (২৪) হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এবং এনসিপির নেতা সাইফ মুস্তাফিজের মিথ্যা ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদে শনিবার (২৮ মার্চ ) উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। শাহজাদপুর পৌর এলাকার মনিরামপুর বাজারের চৌরাস্তা থেকে উপজেলা পরিষদের প্রধান সড়কে বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
প্রায় দেড় ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান আরিফ, সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল জব্বার মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আমির হোসেন সবুজ, প্রচার সম্পাদক আল আমিন হোসেন, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি এমদাদুল হক নওশাদ, সহ-সভাপতি রেজাউল ইসলাম রাজা, যুবদলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিন্টু, সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, যুগ্ম সচিব জাহিদুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা নাদিম আলী, নিহত সোহেলের মা রুবি খাতুন, মামা আব্দুল আলিম বাঘা প্রমুখ।
বক্তারা বলেন সোহেল হত্যা কোন রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড নয়। আমরা সোহেল হত্যার বিচার চাই এবং হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করছি । কিন্তু জাতীয় নাগরিক পার্টির এনসিপির নেতা সাইফ মোস্তাফিজ ওই হত্যাকাণ্ডকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য মাননীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী প্রফেসর ডক্টর এম এ মুহিত কে জড়িয়ে মিথ্যা ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করে আসছে। যা রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান আরিফ, সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল জব্বার , অ্যাডভোকেট কে এম রায়হান উদ্দিন বলেন ও আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, এন সি পি নেতা সাইফ মোস্তাফিজ যে ভাষায় কথা বলছেন তাতে প্রতিয়মান হয় যে এই হত্যাকাণ্ডের সাথে তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তারা সাইফ মুস্তাফিজকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সোহেল হত্যার অনেক তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে দাবি করেন। বক্তারা আরো বলেন এনসিপি নেতা সাইফ মুস্তাফিজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী ডা. এম এ মতিন সম্পর্কেও নানা ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন । মানববন্ধন থেকে বক্তারা ঘোষণা করেন, এনসিপি নেতা সাইফ মোস্তাফিজ যদি মিথ্যা ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত না থাকেন তাহলে পরবর্তীতে তাকে শাহজাদপুরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা সহ প্রতিহত করা হবে।
মানববন্ধনে উপজেলা বিএনপি , পৌর বিএনপি, ইউনিয়ন বিএনপি ও এর অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের শত শত নেতা কর্মী সমর্থকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, গত ২০ মার্চ শুক্রবার রাতে ঈদের বোনাস দেয়ার কথা বলে সোহেলকে তার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পরদিন কায়েমপুর ইউনিয়নের চিনাধুকুরিয়া গ্রামের ধানক্ষেত থেকে পুলিশ সোহেল রানার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে সোহেলের মা রুবি খাতুন বাদী হয়ে কায়েমপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামের নাম উল্লেখসহ ৪/৫ জন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। কিন্তু ৭ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
