আনসার-ভিডিপি হবে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর মানবিক বাহিনী: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

0
আনসার-ভিডিপি হবে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর মানবিক বাহিনী: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

গাজীপুর প্রতিনিধি: নিষ্ঠা, কঠোর শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব ও দেশপ্রেমকে পুঁজি করে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) আগামী দিনে একটি যুগোপযোগী, প্রযুক্তিনির্ভর ও মানবিক সামাজিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ বুধবার গাজীপুরের সফিপুরস্থ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জাতীয় সমাবেশ যেকোনো সুশৃঙ্খল বাহিনীর জন্য অত্যন্ত গৌরবের একটি স্মারক। এই শুভক্ষণে আমি বাহিনীর সকল স্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং তৃণমূলের অকুতোভয় আনসার-ভিডিপি সদস্যদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।”

সরকারপ্রধান যেকোনো সুশৃঙ্খল বাহিনীর মূল ভিত্তি হিসেবে ‘চেইন অব কমান্ড’ ও ‘ডিসিপ্লিন’ বা শৃঙ্খলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, শৃঙ্খলার বিচ্যুতি ঘটলে জনমনে আস্থার সংকট তৈরি হয়। তাই বাহিনীর গৌরব ধরে রাখতে সবাইকে এই দুই নীতি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

মহান মুক্তিযুদ্ধে আনসার বাহিনীর ঐতিহাসিক অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রায় ৪০ হাজার রাইফেল নিয়ে এই বাহিনীর সদস্যরা দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়েছিলেন এবং ৬৭০ জন সদস্য বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগ করেছেন। তিনি শহীদদের আত্মার মাগফirat কামনা করেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার পর দেশের আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক করতে এবং গ্রামীণ ও নগর অঞ্চলের সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারে আনসার ও ভিডিপিকে শক্তিশালী কাঠামোতে রূপ দেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।

১৯৯৫ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সরকার ‘আনসার-ভিডিপি আইন’ প্রণয়ন করে বাহিনীটিকে একটি স্বতন্ত্র শৃঙ্খলা বাহিনীর মর্যাদা দেয়, যা এর প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সংকটকালে দেশের বিভিন্ন থানা পাহারা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং গুরুত্বপূর্ণ কেপিআই (KPI) স্থাপনার সুরক্ষায় আনসার সদস্যরা অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাহিনীর ৪৭টি ব্যাটালিয়নের মধ্যে ১৬টি পার্বত্য চট্টগ্রামে দুর্গম এলাকায় দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া ৫২ হাজার অঙ্গীভূত আনসার সদস্য দেশের মেগা প্রকল্প, শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা দিচ্ছেন। পাশাপাশি ১৩ হাজারের বেশি হিল আনসার ও হিল ভিডিপি সদস্য পাহাড়ে সম্প্রীতি রক্ষায় কাজ করছেন। তৃণমূল পর্যায়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, মাদকবিরোধী অভিযান এবং নারী নির্যাতন মোকাবিলায় প্রতিটি ইউনিয়নে ভিডিপির পুরুষ ও মহিলা প্লাটুন সক্রিয় রয়েছে।

আনসার-ভিডিপিকে কেবল নিরাপত্তা বাহিনী নয়, বরং মানবসম্পদ উন্নয়নের একটি বড় মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। বাহিনীর আধুনিকায়নে গৃহীত নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সদস্যদের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী করতে জাপানি ভাষা শিক্ষা, ডিজিটাল মার্কেটিং, ফ্রিল্যান্সিং এবং উন্নত ‘6G ওয়েল্ডিং’ এর মতো চাহিদাভিত্তিক আধুনিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ‘AVJOBS’ সফটওয়্যার এবং এআই (AI) অ্যাপ্লিকেশনের ব্যবহার শুরু হয়েছে। ‘সঞ্জীবন প্রকল্প’, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক ও ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের মাধ্যমে সদস্যদের জামানতবিহীন ঋণ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আনসার-ভিডিপিকে একটি নির্ভরযোগ্য ‘ফার্স্ট রেসপন্ডার’ (প্রথম সাড়াদানকারী) হিসেবে আখ্যায়িত করেন প্রধানমন্ত্রী। বন্যা ও অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে তাদের সাহসিকতার প্রশংসা করার পাশাপাশি রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং, সোলার প্যানেল ও বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের মতো পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়া ক্রীড়া ক্ষেত্রে টানা তিনবার বাংলাদেশ গেমসে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ২০০৪ সালে এই বাহিনীর ‘স্বাধীনতা পদক’ অর্জনের গৌরবময় ইতিহাসও তিনি স্মরণ করেন।

প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে বাহিনীর সদরদপ্তরে বায়োমেট্রিক হাজিরা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এর পাশাপাশি তিনি ঘোষণা করেন যে— আনসার ব্যাটালিয়ন বিধিমালা, ভিডিপি প্রবিধানমালা, অঙ্গীভূত আনসার বিধিমালা এবং সদস্য নিয়োগ ও পদোন্নতি বিধিমালা-২০২৬ এর খসড়া বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে নতুন প্রবিধানমালা প্রণয়নের কাজও এগিয়ে চলছে।