সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্ন জেলায় আগাম ঈদুল আজহা উদযাপন

0
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্ন জেলায় আগাম ঈদুল আজহা উদযাপন

ধামরাই, পটুয়াখালী, চাপাইনবাবগঞ্জ ও দিনাজপুরের বহু গ্রামে ঈদের জামাত ও পশু কোরবানি; উৎসবমুখর পরিবেশ  

আজকের ডেস্কঃ জাতীয়ভাবে ঘোষিত তারিখের আগেই দেশের বিভিন্ন জেলায় সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পবিত্র ঈদুল আজহা পালন করেছেন মুসল্লিদের একটি অংশ। আজ বুধবার (২৭ মে) সকালে ঈদের নামাজ আদায়, পশু কোরবানি ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করেন তারা। ঢাকার ধামরাই, পটুয়াখালী, চাপাইনবাবগঞ্জ ও দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকেই ছিল উৎসবের আমেজ।

আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য ও স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, বছরের পর বছর ধরে এসব এলাকার একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে আগাম ঈদ পালন করে আসছেন।

ঢাকার ধামরাইয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পবিত্র ঈদুল আজহা পালন করেছেন একটি অংশের মানুষ। বুধবার সকালে ঈদের নামাজ আদায়ের পরপরই তারা পশু কোরবানি করেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ধামরাইয়ের শরীফবাগ গ্রামের অর্ধশতাধিক পরিবার বিগত কয়েক বছর ধরেই এই নিয়ম মেনে ঈদ উদযাপন করে আসছেন। সকাল থেকেই পুরো গ্রামজুড়ে ছিল ধর্মীয় উৎসবের পরিবেশ।

পটুয়াখালীতে এবার ২৫টি গ্রামে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করেছেন। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় সদর উপজেলার বদরপুর দরবার শরীফে প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

দরবার শরীফের খাদেম মো. নাজমুল হোসেন জানান, ১৯২৮ সাল থেকে (প্রায় ৯৮ বছর ধরে) এখানকার অনুসারীরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালন করে আসছেন।

বদরপুর ছাড়াও গলাচিপা, বাউফল ও কলাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার গ্রামগুলোতে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

দিনাজপুর সদরসহ জেলার ছয়টি উপজেলায় আগাম পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লিদের একটি অংশ।

বুধবার সকাল ৮টায় শহরের চারুবাবুর মোড় এলাকার একটি পার্টি সেন্টারে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ কয়েকশ মুসল্লি অংশ নেন। ইমামতি করেন ফুলবাড়ী হলি কুরআন মাদরাসার পরিচালক মাওলানা মো. আব্দুর রাজ্জাক।

এ ছাড়া চিরিরবন্দর, কাহারোল, বোচাগঞ্জ, বিরল ও বিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানেও পৃথক ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ২০০৭ সাল থেকে জেলার এই অংশটি সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন করে আসছে।

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগাম পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করেছেন ৮টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ।

বুধবার সকাল ৮টায় ধানখালী ইউনিয়নের উত্তর নিশানবাড়িয়া এলাকার জাহাঙ্গিরিয়া শাহসুফি মমতাজিয়া দরবার শরীফ মসজিদে প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

এ ছাড়া ইটবাড়িয়া, নাঈয়াপট্টি, টিয়াখালী, তেগাছিয়া, লালুয়া, ফুলতলী ও দক্ষিণ দেবপুর গ্রামেও পৃথক জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘ প্রায় দেড়শ বছর ধরে পূর্বপুরুষদের আমল থেকে তারা এই নিয়ম মেনে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালন করে আসছেন।

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার চারটি গ্রামের কয়েকশ পরিবার একদিন আগেই পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করেছেন।

বুধবার (২৭ মে ২০২৬) সকালে সদর উপজেলার দেবীনগর ইউনিয়নের মোমিনটোলা ও বাগানপাড়া এবং শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের রাধানগর ও ছিয়াত্তর বিঘি গ্রামে ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়। বৃষ্টির কারণে এবার খোলা মাঠের পরিবর্তে স্থানীয় মসজিদগুলোতে ঈদের নামাজ আদায় করা হয়। জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা ইউসুফ আলী।

নামাজ শেষে মুসল্লিরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি দেন। পরে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন তারা।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই এসব গ্রামের মানুষ সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও দুই ঈদ উদযাপন করে আসছেন।