রাজশাহী প্রতিনিধি : রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানার খরবোনা নদীরধার ও কাদিরমোড় এলাকায় একই রাতে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তিনটি পৃথক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় দুই নারী ও দুই যুবক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুই যুবক রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী গৃহবধূ ঝর্ণা বলেন, রবিবার (৩১ মে) সন্ধ্যায় খরবোনা নদীরধার এলাকায় স্থানীয় এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার নেতৃত্বে ৩০-৪০ জনের একটি দল করবোনা এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা জাভেদের মেয়ে শ্রাবনীকে শ্লীলতাহানী করার চেষ্টা করে। এ সময় তার স্ত্রী রানী (৩৫) মেয়েকে রক্ষায় এগিয়ে গেলে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে হামলাকারীরা বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে পালিয়ে যায়।
এর কয়েক ঘণ্টা পর রাত ১০টার দিকে কেদুরমোড় এলাকায় একই দলের হামলায় আলামিন (৩৫) ও সানারুল (৩২) নামে দুই যুবক গুরুতর আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাদের এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে আলামিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে আইসিইউ’তে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে এবং আলামিন ১নং ওয়ার্ডে ভর্তি ও রানী ৮নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই দুই যুবককে হাসপাতালে নেওয়ার পরও হামলাকারীরা আরেকটি বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এরমধ্যে আহত সানারুল ও তার বড় ভাই জিয়ারুলের বাড়ির সমস্ত মালামাল রাত ৩টা লুটপাট করে নিয়ে যায় হামলাকারী আলীর নেতৃত্বে তার বাহীনি। ভুক্তভোগীদের দাবি, ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় এ ব্যপারে জানতে চাইলে বোয়ালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রবিউল ইসলাম জানান, রবিবার রাতের তান্ডবের বিষয়ে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মামলার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে বলেও জানান ওসি।
এদিকে, ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। আহতদের পরিবারের লোকজন এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

