পাবনায় উপেক্ষিত ডিসির নির্দেশ চলছেই ঈদ আনন্দ মেলা ও সার্কাস

0
পাবনায় ৩ দিনের অনুমোদন শেষে ঈদ মেলা ও সার্কাস বন্ধের নির্দেশ ডিসি’র

ভাঙ্গুড়া প্রতিনিধিঃ পাবনার ভাঙ্গুড়ায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদতবার্ষিকীর দিনে (৩ মে) উদ্বোধন হওয়া ঈদ আনন্দ মেলা ও সার্কাস নিয়ে আলোচনা সমালোচনার মধ্যেই মেলা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে পাবনা জেলা প্রশাসন। তিন দিনের অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও মেলা ও সার্কাস চলমান থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, ভাঙ্গুড়া উপজেলার বড়াল ব্রিজ খেলার মাঠে তরঙ্গ সাংস্কৃতিক ও নাট্য গোষ্ঠীর উদ্যোগে ঈদ আনন্দ মেলা ও দি বুলবুল জয়া সার্কাসের আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৯, ৩০ ও ৩১ মে পর্যন্ত তিন দিনের জন্য মৌখিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তবে অনুমোদনের সময় সীমা শেষ হওয়ার পরও সোমবার (১ জুন) মেলা ও সার্কাস চলতে দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠলে জেলা প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

পাবনা জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, মেলার জন্য মৌখিকভাবে তিন দিনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে (ভাঙ্গুড়া) মেলা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আরিফুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা পেয়েছি। আগামীকাল (মঙ্গলবার) থেকে মেলা ও সার্কাস বন্ধ করে দেওয়া হবে।

এর আগে গত ৩০ মে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদতবার্ষিকীর দিন মেলা ও সার্কাসের উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ওইদিন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন। অনুষ্ঠানে উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের অধিকাংশের মতে দলের প্রতিষ্ঠাতার শাহাদতবার্ষিকীর দিনে দোয়া মাহফিল ও স্মরণসভা কেন্দ্রিক কর্মসূচির পরিবর্তে মেলা ও সার্কাস উদ্বোধনে অংশ নেওয়া অনভিপ্রেত ছিল। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নূর-মুজাহিদ স্বপন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীর দিনে সার্কাস উদ্বোধন কোনোভাবেই ঠিক হয়নি। উদ্বোধন একদিন আগে বা পরে করা যেত।

পাবনা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার বলেন, শোকের দিনে মিলাদ মাহফিল বা দোয়া কর্মসূচি হওয়াই যৌক্তিক ছিল। মেলা বা আনন্দঘন কোনো আয়োজন বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত কারও মাধ্যমে হওয়া ঠিক হয়নি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাসান জাফির তুহিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।