প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় আটক: পটিয়া যুবদল নেতা কফিল বহিষ্কার

0
প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় আটক: পটিয়া যুবদল নেতা কফিল বহিষ্কার

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের পটিয়ায় এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয় জনতার হাতে আটক হওয়ার পর দল থেকে বহিষ্কার হয়েছেন যুবদল নেতা মিজানুর রহমান কফিল। তিনি পটিয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। ‘নৈতিক স্খলনজনিত’ গুরুতর অপরাধের অভিযোগে সোমবার (১ জুন) রাতে কেন্দ্রীয় যুবদল তাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে।

জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন যৌথভাবে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন। যুবদলের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক সদস্য পদসহ কফিলকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং দলের কোনো স্তরের নেতাকর্মী যেন তার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখেন, সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (৩১ মে) দুপুরে পটিয়া উপজেলার কোলাগাঁও ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে এক প্রবাসীর স্ত্রীর বাড়িতে যান মিজানুর রহমান কফিল (৩৭)। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই নারীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কফিলের পরকীয়া সম্পর্ক চলছিল। রোববার দুপুরে তাকে ওই ঘরে ঢুকতে দেখে চারপাশ থেকে ঘেরাও করে স্থানীয় জনতা। পরে আপত্তিকর অবস্থায় তাকে হাতেনাতে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় উত্তেজিত জনতার কেউ কেউ তাকে গণধোলাইও দেয়।

ঘটনার পরপরই কফিলকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং একপর্যায়ে অভিযুক্ত ওই নারীকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে দেখা যায়। এই ঘটনাটি নিয়ে পুরো পটিয়া জুড়ে তীব্র সমালোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে কফিলের পরিবার এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এগিয়ে আসেন। সাবেক ইউপি সদস্য মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন জানান “খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। তখন সেখানে বেশ উত্তেজনাকর পরিস্থিতি ছিল। পরে স্থানীয় মুরুব্বিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়।”

পরবর্তীতে একটি সামাজিক সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে লিখিত মুচলেকা রেখে আটক হওয়ার প্রায় তিন ঘণ্টা পর কফিলকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বহিষ্কৃত এই যুবদল নেতা। মিজানুর রহমান কফিলের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য এই নাটক সাজিয়েছে। তিনি বলেন, “আমি এক আত্মীয়ের বাড়িতে পাওনা টাকা-পয়সার লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলতে গিয়েছিলাম। আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য প্রতিপক্ষরা পরিকল্পিতভাবে আমাকে হেনস্তা করেছে।”

দলীয় ব্যবস্থা ও স্থানীয়দের হাতেনাতে আটকের পর কফিলের এই আত্মপক্ষ সমর্থন নিয়ে এখন এলাকায় নানা গুঞ্জন চলছে।