ঝিনাইগাতীতে ছেলেকে চুরির অপবাদ দিয়ে বাবাকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

0
ঝিনাইগাতীতে ছেলেকে চুরির অপবাদ দিয়ে বাবাকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

ঝিনাইগাতী প্রতিনিধিঃ বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্তের নির্দেশ পিবিআইকে শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ছেলের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তুলে খোরশেদ আলম (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নলকুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আজহারুল ইসলাম (সুজা) ও ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো. শরীফ উদ্দিনসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী। আদালত মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)কে নির্দেশ দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের ভারুয়া বাজারসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নলকুড়া ইউনিয়নের ভারুয়া আমতলী এলাকার বাসিন্দা মো. আমিনুল ইসলাম ডিস লাইনের ব্যবসা করেন। প্রায় এক মাস আগে তাঁর ঘর থেকে একটি ব্যাটারি চুরি যায়। ওই ব্যাটারি খোরশেদ আলমের ছেলে সানোয়ার হোসেন (১৭) চুরি করেছে—এমন সন্দেহ করে আসছিলেন আমিনুল ইসলাম বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এরই জেরে ঘটনার দিন সকালে আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে ৫-৭ জন ব্যক্তি খোরশেদ আলমকে ধরে ভারুয়া বাজারসংলগ্ন হামিদুল্লাহ মেম্বারের দোকানে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সেখানে তাঁর হাত-পা বেঁধে মারধর ও নির্যাতন করা হয় বলে মামলায় দাবি করেছেন খোরশেদ আলম। পরে ইউপি সদস্য হামিদুল্লাহ তাঁর হাত-পায়ের বাঁধন খুলে দেন বলে তিনি জানান।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং খোরশেদ আলমকে উদ্ধার করে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী খোরশেদ আলম বাদী হয়ে ঝিনাইগাতী সিআর আমলী আদালতে মামলা করেন। মামলায় নলকুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আজহারুল ইসলাম (সুজা), ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো. শরীফ উদ্দিন, মানিককুড়া গ্রামের ভুষু মিয়া ও মো. আমিনুল ইসলামকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। আদালত মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘খোরশেদ আলমকে আমরা ধরে নিয়ে আসিনি। তাঁকে ডেকে নিয়ে এসেছিলাম। তাঁকে কোনো মারধর করা হয়নি।’

ইউপি সদস্য হামিদুল্লাহ বলেন, ‘খোরশেদ আলমের হাতের বাঁধন আমি খুলে দিয়েছি।’ মামলায় অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মো. আজহারুল ইসলাম (সুজা) ও ছাত্রদল নেতা মো. শরীফ উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী খোরশেদ আলম ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।