সাভারে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ: প্রতিবেশী মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার ৩

0
সাভারে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ: প্রতিবেশী মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার ৩

সাভার প্রতিনিধিঃ ঢাকার সাভারে স্বামীর অনুপস্থিতির সুযোগে এক গৃহবধূকে (২০) পরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ উঠেছে একদল প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। লোমহর্ষক এই ঘটনায় সাভার মডেল থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে মূলহোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

শনিবার (২৩ মে) রাতে সাভারের কাউন্দিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে উত্তেজিত জনতা মূল অভিযুক্তকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই তরুণী তার স্বামীকে নিয়ে কাউন্দিয়া এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। প্রতিবেশী মো. সাইফুল ইসলাম রানা (৩৬) দীর্ঘদিন ধরেই ওই গৃহবধূকে উত্যক্ত করাসহ বিভিন্ন কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল।

গত শুক্রবার (২২ মে) গভীর রাতে ভুক্তভোগীর স্বামী বাসায় না থাকার সুযোগে সাইফুল ও তার সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওই বাড়িতে হানা দেয়। ঘটনার সময় বাইরে কয়েকজন পাহারায় নিযুক্ত ছিল। এরপর সাইফুল ইসলাম ও তার অন্যতম সহযোগী সাকিব ঘরের ভেতর প্রবেশ করে ওই গৃহবধূকে জিম্মি করে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

ধর্ষণের একপর্যায়ে ভুক্তভোগী নারী চিৎকার শুরু করলে বাইরে পাহারায় থাকা মজিবর রহমান, ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর এবং অজ্ঞাতনামা আরও একজন ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ভেতরে ঢোকার পর অজ্ঞাতনামা ওই ব্যক্তি মোবাইল ফোনে পুরো ঘটনার আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে। পাশবিক এই নির্যাতনের পর ঘটনাটি কাউকে জানালে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তারা চলে যায়।

শনিবার সকালে ভুক্তভোগীর স্বামী কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরলে নির্যাতিতা নারী কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং পুরো ঘটনাটি খুলে বলেন। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি স্থানীয় মাতব্বর ও প্রতিবেশীদের জানালে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

শনিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে মূল অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম রানাকে ধরে গণপিটুনি দেয় এবং সাভার মডেল থানা পুলিশকে খবর দিয়ে তাদের হাতে তুলে দেয়। পরে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে বাকি দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলো: মো. সাইফুল ইসলাম রানা (৩৬) প্রধান অভিযুক্ত, মজিবর রহমান (৪৮), ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর

এই ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূর মা বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় চারজনের নাম উল্লেখসহ এবং অজ্ঞাতনামা একজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান “ভুক্তভোগীর পরিবারের এজাহারের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। পর্নোগ্রাফি আইনের ধারাটি যুক্ত করা হয়েছে কারণ আসামিরা ভুক্তভোগীর আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে অপরাধ করেছে।”

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামিকে রোববার (২৪ মে) দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত বাকি আসামিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া ভুক্তভোগী গৃহবধূকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (OCC) পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।