মিরপুরের ক্ষোভের মাঝেই নারায়ণগঞ্জে ৬ বছরের শিশুকে পাশবিক নির্যাতন, গণপিটুনিতে ১ ধর্ষক আটক

0
মিরপুরের ক্ষোভের মাঝেই নারায়ণগঞ্জে ৬ বছরের শিশুকে পাশবিক নির্যাতন, গণপিটুনিতে ১ ধর্ষক আটক

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে যখন তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে, ঠিক তখনই নারায়ণগঞ্জে আরেকটি নৃশংস ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে সাধারণ মানুষকে। এবার সদর উপজেলার বক্তাবলী ইউনিয়নে ৬ বছরের এক শিশু কন্যাকে পাশবিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। এই জঘন্য অপরাধের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ জনতা এক অভিযুক্তকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে বক্তাবলী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আনন্দবাজার এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত দুই যুবক হলো—একই এলাকার মনির হোসেনের ছেলে হিরো (২২) ও জামাল পাটোয়ারীর ছেলে সোহেল (২১)।

বিকেলে ঘটনার পর শিশুটির মা পুরো বিষয়টি বুঝতে পারলেও প্রথমে লোকলজ্জা ও সামাজিক ভয়ে কাউকে কিছু জানাতে পারেননি। তবে রাতের দিকে শিশুটির শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে ঘটনাটি চারদিকে জানাজানি হয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

উত্তেজিত এলাকাবাসী রাতেই অভিযুক্তদের ধরতে অভিযানে নামে। একপর্যায়ে মূল অভিযুক্ত হিরোকে অবরুদ্ধ করে গণপিটুনি দেয় জনতা। খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর জখম অবস্থায় হিরোকে উদ্ধার করে এবং নিজেদের হেফাজতে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করায়। তবে ঘটনার পর থেকেই অপর অভিযুক্ত সোহেল পলাতক রয়েছে।

ধর্ষণের শিকার শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। প্রথমে তাকে দ্রুত মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জরুরিভিত্তিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে শিশুটি ঢামেক হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহাবুব আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। পাশবিক এই ঘটনার সাথে জড়িত পলাতক অপর আসামি সোহেলকে গ্রেফতার করতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে অভিযান চালাচ্ছে। অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”

মিরপুরের রামিসা হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই নারায়ণগঞ্জের এই ঘটনাটি আবারও শিশুদের সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন চিহ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মানবাধিকার কর্মী ও সাধারণ মানুষ।