রায়গঞ্জে ২৬ দিন পর নিখোঁজ কলেজছাত্রী উদ্ধার: অভিযুক্ত শিক্ষক গ্রেফতার, পাঠানো হলো কারাগারে

0
রায়গঞ্জে ২৬ দিন পর নিখোঁজ কলেজছাত্রী উদ্ধার: অভিযুক্ত শিক্ষক গ্রেফতার, পাঠানো হলো কারাগারে

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ টানা ২৬ দিনের উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা সদর মহিলা কলেজের নিখোঁজ দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১৭) উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সাথে তরুণীকে ফুসলিয়ে নিয়ে আত্মগোপনে থাকার অভিযোগে ওই কলেজেরই শিক্ষক মো. রবিউল আলমকে (৪৩) গ্রেফতার করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পার্শ্ববর্তী গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থেকে অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার ও অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা হয়।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রায়গঞ্জ উপজেলার ব্রহ্মগাছা গ্রামের বাসিন্দা বেলি রানী ভৌমিকের মেয়ে পলি কুমারী ভৌমিক (১৭) গত ৫ মে সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। স্বজনরা সম্ভাব্য সব জায়গায় সন্ধান করেও তার কোনো খোঁজ না পেয়ে পরদিন ৬ মে রায়গঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

নিখোঁজের পর থেকেই পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগের আঙুল ওঠে ওই ছাত্রীর কলেজের শিক্ষক রবিউল আলমের দিকে। অভিযুক্ত রবিউল উপজেলার ব্রহ্মগাছা ইউনিয়নের কয়ড়া গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে। তিনি রায়গঞ্জ উপজেলা সদর মহিলা কলেজের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।

ছাত্রীর মা বেলি রানী ভৌমিক ক্ষোভ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার মেয়েটি সন্ধ্যার পর নিখোঁজ হলে আমরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি করি। পরে নিশ্চিত হই যে, কলেজের শিক্ষক রবিউল আলম তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বা অন্য কোনো কৌশলে ফুসলিয়ে অপহরণ করেছে। একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন জঘন্য আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”

বিষয়টিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুতর হিসেবে বিবেচনা করে মাঠে নামে রায়গঞ্জ থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, মোবাইল ট্র্যাকিং এবং গোয়েন্দা উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিখোঁজ ছাত্রী ও শিক্ষকের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলে। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে তিন সপ্তাহের নিরবচ্ছিন্ন অনুসন্ধানের পর গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানার ১ নম্বর কাটাবাড়ী এলাকায় তাদের অবস্থান নিশ্চিত করে পুলিশ।

গত ৩১ মে (রোববার) ওই এলাকায় একটি ঝটিকা অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে পলি কুমারী ভৌমিককে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং তাকে অবৈধভাবে নিজের হেফাজতে রাখার অপরাধে শিক্ষক রবিউল আলমকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ছাত্রীর প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষা ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অন্যদিকে, এই ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গত সোমবার (১ জুন) গ্রেফতারকৃত শিক্ষক রবিউল আলমকে সিরাজগঞ্জ আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ বিচারক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে সরাসরি কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসানুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, “তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা নিখোঁজ ছাত্রীকে উদ্ধার ও মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। উদ্ধার হওয়া তরুণীর জবানবন্দি ও ডিজিটাল তথ্য-উপাত্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ বা কারও ইন্ধন আছে কিনা তা খতিয়ে দেখে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আদালতে নিখুঁত চার্জশিট দাখিল করা হবে।”

পবিত্র শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের এই চরম অবমাননার ঘটনায় রায়গঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দা এবং সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।