মায়ের চোখের সামনেই গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হলো খুশি বেগমকে

0
 মায়ের চোখের সামনেই গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হলো খুশি বেগমকে

খুলনা প্রতিনিধি: খুলনা নগরীর লবণচরা থানাধীন জিন্নাহপাড়া এলাকায় নিজ বাসার সামনে প্রকাশ্যে খুশি বেগম (২৪) নামের এক গৃহবধূকে গুলি করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। পূর্বপরিকল্পিত এই হত্যাকাণ্ডের সময় নিহতের মাসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও সন্ত্রাসীদের আকস্মিক হামলায় কেউ তাকে রক্ষা করতে পারেননি। ঘটনার পর থেকেই পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক এবং চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জিন্নাহপাড়া ৭ নম্বর রোডের টাওয়ার গলির সামনে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

নিহত খুশি বেগম খুলনার লবণচরা এলাকার জিন্নাহপাড়া এলাকার বাসিন্দা খোকনের মেয়ে এবং স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘ব্লেড বাবু’ নামের এক ব্যক্তির স্ত্রী। দাম্পত্য জীবনে তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী ছিলেন। স্বামীর সঙ্গে দূরত্ব বা পারিবারিক টানাপোড়েনের কারণে তিনি বর্তমানে বাবা-মায়ের সঙ্গেই ওই এলাকায় বসবাস করছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের মায়ের চাঞ্চল্যকর ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে খুশি বেগম তার মায়ের সঙ্গে নিজ বাড়ির সামনে অবস্থান করছিলেন। ঠিক ওই মুহূর্তে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা মিরাজসহ ৪ থেকে ৫ জনের একটি দুর্বৃত্ত দল সেখানে উপস্থিত হয়।

নিহতের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, দুর্বৃত্তদের মধ্যে মিরাজ নামের এক যুবক তাদের খুব কাছে এসে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে কুশল বিনিময় করে—”মিরাজ কেমন আছেন?”—এমন কথা জিজ্ঞেস করে। মুহূর্তের মধ্যে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই মিরাজ ও তার সহযোগীরা খুশির মাথায় সরাসরি অস্ত্র তাক করে গুলি ছোড়ে। এরপর নিশ্চিত মৃত্যুর জন্য তাকে এলোপাতাড়ি ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়। পরে স্থানীয়রা বুঝে ওঠার আগেই ঘাতকরা দ্রুত মোটরসাইকেলে চড়ে এলাকা ত্যাগ করে।

রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় দ্রুত খুশিকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

খুনের খবর পেয়ে রাতেই লবণচরা থানা পুলিশ এবং গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একাধিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।

লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশাররফ হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, ঠিক কী কারণে এবং কারা এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িত, তা উদ্ঘাটনে পুলিশি তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। নিহত নারীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে, এলাকার মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তার বা পূর্ব শত্রুতার জেরে এই টার্গেটেড কিলিং (টার্গেট করে খুন) সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে বর্তমানে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।