
রাজশাহী প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরের ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘স্নাইপার’ সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর ও নিরাপত্তাজনিত হুমকিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে কলেজছাত্র মো. আবু বক্কর সিদ্দিক (২৩) এবং তার বাবা মো. আয়নাল হককে আটক করা হয়েছে। স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৫ অভিযান চালিয়ে তাদের আটকের পর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) হেফাজতে পাঠিয়েছে।
আটককৃতদের বিরুদ্ধে স্পর্শকাতর নিরাপত্তা ইস্যুতে গোয়েন্দা নজরদারি ও অধিকতর তদন্ত চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সামরিক বিমানে রাজশাহীর হযরত শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছান এবং নিরাপত্তা বেষ্টনী অতিক্রম করে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) একটি বাসে চড়ে মাদ্রাসা ময়দানের কর্মসূচিতে অংশ নেন।
পরবর্তীতে ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামক একটি পরিচিত ফেসবুক পেজে রুয়েটের বাসে বসা প্রধানমন্ত্রীর সফরের ছবি পোস্ট করে বুলেটপ্রুফ গাড়ি ব্যবহার না করার বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। উক্ত পোস্টের কমেন্ট বক্সে ‘এমডি আবু বকর সিদ্দিক’ নামের আইডি থেকে লেখেন “ইস! একটা বড় সুযোগ ছিল। শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল।”
প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে এই প্রচ্ছন্ন প্রাণঘাতী মন্তব্যের স্ক্রিনশট দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক অঙ্গন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চপর্যায়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে চন্দ্রিমা থানা পুলিশ ও আরএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিট মাঠে নামে। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে যৌথ ও সাদা পোশাকের অভিযানে নামেন এসআরবি-৫-এর সদস্যরা।
প্রথমে চন্দ্রিমা থানার কেচুয়াতৈল এলাকায় নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আবু বকরকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তার বাবা কৃষক আয়নাল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জানান, আবু বকর পবা উপজেলার হাটরামচন্দ্রপুর ঘোলহারিয়া গ্রামে তার মামার বাড়িতে লুকিয়ে আছেন।
বাবাকে সঙ্গে নিয়ে মামার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আবু বকর সিদ্দিককে আটক করা হয় এবং পরিবারের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। বাবা ও ছেলে দুজনকেই ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পরবর্তীতে চন্দ্রিমা থানার ওসি মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে বকরের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি পেনড্রাইভের মোড়ক জব্দ করা হয়, তবে পরিবারের দেওয়া তথ্যানুযায়ী তার কোনো ল্যাপটপ ছিল না।
আবু বকর সিদ্দিক রাজশাহী নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের অনার্স ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী। পড়ালেখার পাশাপাশি সংসারের হাল ধরতে তিনি ভ্যানে সবজি পরিবহনের কাজ করতেন। বকরের মা আসমাউল হুসনা দাবি করেন, তার ছেলে বিনয়ী ও নিরীহ; না বুঝে হয়তো কিছু করেছে বা তাকে ফাঁসান হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুসন্ধানে কোনো রাজনৈতিক পদে তার নাম পাওয়া যায়নি। কলেজ ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের স্থানীয় দায়িত্বশীলরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, আবু বকর তাদের কোনো রাজনৈতিক সদস্য বা কর্মী নন।
এসআরবি-৫ অধিনায়ক জানান, বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় তদন্তের স্বার্থে দুজনকে ডিএমপির ডিবির কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও হুমকির শামিল এমন মন্তব্য ডিজিটাল অপরাধের আওতায় পড়ে। সাইবার নিরাপত্তা আইন ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ধারায় তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
