ইবিতে ‘দায়সারা’ নববর্ষ উদযাপন; শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

0
ইবিতে ‘দায়সারা’ নববর্ষ উদযাপন; শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

ইবি প্রতিনিধি: বাংলা বছরের দ্বিতীয় দিনে নববর্ষ উদযাপন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) প্রশাসন। উদযাপনের অংশ হিসেবে আনন্দ শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে প্রশাসন। তবে প্রশাসনের আয়োজনকে ‘দায়সারা’ আখ্যা দিয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলো। বুধবার (১৫ এপ্রিল) নববর্ষ উদযাপন শেষে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতারা। তবে নববর্ষ উদযাপন কমিটির আহবায়কের মতে অত্যন্ত সুন্দর ও উৎসবমূখর পরিবেশে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।

নববর্ষ উদযাপন আয়োজনের বছরের প্রথমদিন নববর্ষ উদযাপন না করা, ছাত্রসংগঠনগুলোকে ইনভাইট না করা, অনুষ্ঠানের যথেষ্ট পূর্ব প্রচারণা না করাসহ নানা অভিযোগ তুলেছে শিক্ষার্থীরা। গত বছরের নববর্ষের বর্নাঢ্য শোভাযাত্রায় বিভিন্ন বিভাগ থেকে দুই সহস্রাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করলেও এবারে সর্বোচ্চ দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ নেন।

এবিষয়ে শাখা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক এস এম সুইট বলেন, বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে কি কি প্রোগ্রাম হবে এবং কখন হবে তার কোনো কিছুই আমি জানি না। প্রোগ্রাম সম্পর্কে ছাত্রনেতাদের জানানো বা ইনভাইটেশন করেনি প্রশাসন। ছাত্রনেতারা বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকে। প্রশাসন তাদের মনের বিরুদ্ধে কোনো রকম দায় সারতেই এবং নড়বড়ে নববর্ষের আয়োজন করেছেন।

শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতীয় জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিবস যা বাঙালি জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে ধারণ করে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দিবসটি যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। এ ধরনের একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিবস নির্ধারিত দিনেই উদযাপন করা উচিত ছিল। পরবর্তী দিনে তা পালন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, বরং এটি দিবসটির মর্যাদাকে খর্ব করেছে।

তিনি আরো বলেন, আজকের আয়োজনে কয়েকটি নির্দিষ্ট বিভাগ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগ, আবাসিক হল, শিক্ষক সংগঠন, কর্মকর্তা-কর্মচারী সংগঠন, ছাত্র সংগঠন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনকে যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি। ফলে একটি সর্বজনীন ও অংশগ্রহণমূলক আয়োজনের পরিবর্তে এটি সীমিত হয়েছে। এটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা এবং বাস্তবায়ন কমিটির অযোগ্যতারই বহিঃপ্রকাশ। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিবসে সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করায় আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

ক্ষোভ প্রকাশ করে শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মাসুদ রুমি মিথুন বলেন, ইবির বর্তমান প্রশাসন প্রথম থেকেই অথর্বের মতো কাজ করে আসছে। এবারের ‘পহেলা বৈশাখ’ আয়োজনেও এর ব্যতিক্রম কিছু ঘটেনি। পহেলা বৈশাখ আমাদের ঐতিহ্যবাহী উৎসব। অথচ সারাদেশে গতকাল বহুমুখী আয়োজনে এ উৎসব উদযাপিত হলেও ইবি প্রশাসন একদিন পিছিয়ে আজ নামমাত্র এক আয়োজন করেছে। এর মতো হাস্যকর বিষয় আর কী হতে পারে? একইসাথে তারা এ আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল কোনো ছাত্র সংগঠনকেই দাওয়াত দেয়নি। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

অন্যদিকে, নববর্ষ উদযাপন কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক ড. মনজুর রহমান বলেন, গতকাল সরকারি ছুটি ছিলো, তাছাড়া প্রান্তিক এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় ছুটির দিনে ক্যাম্পাসে সাধারণত মানুষজন থাকে না। তাই আজকে নববর্ষের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সকলকেই চিঠি দেওয়া হয়েছে। ছাত্রসংগঠনকেও বলা হয়েছে। অনুষ্ঠানের তারিখ নিয়ে একটু কনফিউশান থাকায় অনেককে একটু দেরিতে বলা হয়েছে। এখন সংগঠনগুলো কেন অংশ নেয়নি সে বিষয়ে বলতে পারাবো না। তবে অনুষ্ঠান খুবই সুন্দর হয়েছে।