এক নারীর কারণে ৪৭ লাখ মানুষের করোনা পরীক্ষা

0
এক নারীর কারণে ৪৭ লাখ মানুষের করোনা পরীক্ষা

বাংলাদেশ প্রতিবেদক: জিনজিয়ানে ব্যাপকভাবে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ারোধে প্রদেশটির কাশগার শহরে গণপরীক্ষা শুরু হয়েছে।

শহরটিতে ৪৭ লাখ বাসিন্দা বসবাস করে। তাদের প্রত্যেকের নমুনা পরীক্ষা করা হবে। এ পর্যন্ত উপসর্গহীন ১৩৮ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

করোনা সংক্রমণ সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখতে ব্যাপকভাবে সফল হয়েছে চীন। তবে স্বল্প পরিমাণে দেশটিতে সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে।

জিয়ানজিয়ানে সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলমানরা বসবাস করে। বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে উইঘুরদের নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি উইঘুরদের বিরুদ্ধে শি জিনপিং প্রশাসনের চালানো নৃশংসতাকে গণহত্যা আখ্যা দিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য কানাডার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটির পার্লামেন্টের মানবাধিকার বিষয়ক সাবকমিটি।

কাশগারের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। করোনা পরীক্ষার নেগেটিভ সার্টিফিকেট ছাড়া বাসিন্দাদের অন্যত্র যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

উপসর্গহীন করোনায় আক্রান্ত এক নারী থেকে কাশগারে ভাইরাস ছড়িয়েছে। ওই নারী শহরের পার্শ্ববর্তী সুফু কাউন্টির একটি গার্মেন্টসে কাজ করতো।

নিয়মিত নমুনা পরীক্ষার সময় ওই নারীর শরীরে করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব ধরা পড়ে। ১০ দিনের মধ্যে চীনের মূলভূখণ্ডে প্রথম করোনা রোগীর শনাক্তের ঘটনা এটি।

শনিবার ব্যাপকহারে করোনা পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত উপসর্গহীন করোনায় আক্রান্ত ১৩৮ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

উপসর্গহীন আক্রান্তদের তালিকাভুক্ত করে না চীন। এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট আক্রান্ত ৮৫ হাজার ৮১০ জন। মারা গেছে ৪ হাজার ৬৩৪ জন।

রোববার বিকেলে পর্যন্ত ২৮ লাখ মানুষের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। আগামী দু’দিনের মধ্যে বাকিদের পরীক্ষা সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছে শহর কর্তৃপক্ষ।

চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ জিনজিয়ানে কাশগার অবস্থিত। কাশগারে সংখ্যালঘু উইঘুর এবং তুর্কি মুসলিমরা বসবাস করে।

জিনজিয়ানে অসংখ্য বন্দিশালী রয়েছে। উগ্রবাদ মোকাবিলায় সেগুলো পুন:শিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয় বলে দাবি চীনের। তবে জাতিসংঘসহ মানবাধিকার সংস্থাগুলো তথ্য প্রমাণসহ বলছে, আটক কেন্দ্রে ভাষা, সংস্কৃতি, আত্মপরিচয়, ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তনে উইঘুরদের বাধ্য করছে চীনা সরকার।

জোরপূর্বক শ্রম এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে জিনজিয়ান থেকে সম্প্রতি কিছু পণ্য আমদানি প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

চীনের অধিকাংশ শহরে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা শুরু হয়েছে। অব্যাহত রয়েছে স্বল্প পরিসরে করোনা সংক্রমণ। গণসংক্রমণ ঠেকাতে গণপরীক্ষাকে বেছে নিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ।

অক্টোবরের শুরুতে কিয়াংডু কর্তৃপক্ষ শহরের ৯০ লাখ বাসিন্দার নমুনা পরীক্ষা করে।

মে মাসে উহানের ১ কোটি ১০ মানুষের করোনা পরীক্ষা করা হয়। গেলো বছরের ডিসেম্বরে ওই শহরে প্রথম করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়।