আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সৌদি আরবের আল-খারজ এলাকায় অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইরান। শুক্রবার (২৭ মার্চ) গভীর রাতে পরিচালিত এই অভিযানে অন্তত ১২ মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ খবর নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, ইরান এই অভিযানে একযোগে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করেছে। হামলাটি সরাসরি মার্কিন সেনাদের আবাসন এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়। আহত ১২ জনের মধ্যে ২ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত ছবিতে বিমানঘাঁটির রানওয়ে এবং সংলগ্ন অবকাঠামোতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন দেখা গেছে। গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের মতে, ইরান তাদের নিজস্ব প্রযুক্তির অত্যন্ত নির্ভুল নিশানার ক্ষেপণাস্ত্র (Precision-guided missiles) ব্যবহার করেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে সমন্বিত যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এটি অন্যতম বড় আঘাত। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সর্বশেষ তথ্যমতে চলমান চার সপ্তাহের যুদ্ধে এ পর্যন্ত আহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০০ জনে। এর মধ্যে ২৭৩ জন সুস্থ হয়ে পুনরায় কর্মস্থলে ফিরেছেন। এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ১৩ মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন।
সৌদি আরবে মোতায়েন করা মার্কিন প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই হামলায় কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পেরেছে, তা নিয়ে এখন পেন্টাগনের অভ্যন্তরে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। ড্রোনের ঝাঁক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের এই সমন্বিত আক্রমণ মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি কেন পুরোপুরি সফল হলো না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়।
এই হামলার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ‘হাই অ্যালার্ট’ বা উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ওয়াশিংটন এই হামলার কড়া জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সামরিক সূত্রগুলো থেকে জোরালো ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ফলে ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার এই যুদ্ধ পরিস্থিতি নতুন করে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রয়টার্স ও সামরিক সূত্র

