চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ কাঁচামাল বা অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের (ক্রড অয়েল) তীব্র সংকটে অচল হয়ে পড়েছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ায় মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর থেকে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান দুটি বড় ইউনিট বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে নামমাত্র সচল থাকা একটি ছোট প্লান্ট থেকে চাহিদার তুলনায় নগণ্য পরিমাণ জ্বালানি উৎপাদিত হচ্ছে।
ইআরএল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইন বিঘ্নিত হয়েছে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর চট্টগ্রাম বন্দরে আর কোনো ক্রড অয়েলের চালান আসেনি। কাঁচামাল না থাকায় মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকেই প্লান্টগুলো তাদের সক্ষমতার চেয়ে অনেক কম (লো ক্যাপাসিটি) উৎপাদনে চলছিল। সর্বশেষ মঙ্গলবার সকালে মজুদ ‘ডেড স্টকে’ পৌঁছালে বড় ইউনিট দুটি বন্ধ করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সাধারণত তেল মজুদের ট্যাংকের তলানির ১.৫ মিটার অংশকে ‘ডেড স্টক’ হিসেবে গণ্য করা হয়, যা সাধারণত ব্যবহার করা হয় না। গত রোববার বিকালেই মজুদ এই সীমানায় পৌঁছেছিল। ঝুঁকি নিয়ে আরও একদিন কার্যক্রম চালানোর পর মঙ্গলবার দুপুর থেকে উৎপাদন সীমিত করা হয়। বর্তমানে মজুদের পরিমাণ এক মিটারেরও নিচে নেমে এসেছে।
প্রধান ইউনিটগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশে জ্বালানি তেলের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনে বড় ধরনের ধস নেমেছে। বর্তমানে সচল থাকা একমাত্র ছোট প্লান্টটির চিত্র, ডিজেল উৎপাদন: দৈনিক মাত্র ১২০ টন। পেট্রোল উৎপাদন: দৈনিক মাত্র ১০০ টন।
বিপিসি’র অপারেশন বিভাগের জিএম মোরশেদ আজাদ জানান, “যতক্ষণ তেল সরবরাহ অব্যাহত থাকবে, ততক্ষণ শোধনাগারটি পুরোপুরি বন্ধ বলা যাবে না। বর্তমান মজুদ দিয়ে এই ছোট প্লান্টটি আরও প্রায় ১৫ দিন চালানো সম্ভব হবে।”
বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৫ মে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের পরবর্তী চালান দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ওই চালানটি খালাস হওয়ার পর পুনরায় সবগুলো ইউনিটে পুরোদমে উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে। তবে এর আগ পর্যন্ত দেশীয় এই শোধনাগার থেকে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির কোনো সম্ভাবনা নেই।
সংকটকালীন এই সময়ে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানির ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

