অনুপ্রবেশকারীদের ‘সোজা সীমান্ত পার’ ও মাদ্রাসায় ‘বন্দে মাতরম’ বাধ্যতা: পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দু সরকারের জোড়া অ্যাকশন

0
অনুপ্রবেশকারীদের ‘সোজা সীমান্ত পার’ ও মাদ্রাসায় ‘বন্দে মাতরম’ বাধ্যতা: পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দু সরকারের জোড়া অ্যাকশন

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গের শাসনক্ষমতায় আসার পর থেকেই একের পর এক কড়া ও নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়ে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। এবার রাজ্যজুড়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এবং জাতীয়তাবাদী চেতনা বাস্তবায়নে দুটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে তার সরকার। একদিকে হাওড়া স্টেশন এলাকা থেকে অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিকদের চিহ্নিত করে কোনো রকম আইনি মারপ্যাঁচ ছাড়াই সরাসরি সীমান্ত পার করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি; অন্যদিকে রাজ্যের সব স্কুলেই শুধু নয়, এবার সব মাদ্রাসাতেও প্রতিদিন সকালে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

শুভেন্দু সরকারের এই জোড়া প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) হাওড়ার নতুন কালেকটারেটে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার এবং আরপিএফ (রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স) কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

উক্ত বৈঠকে রাজ্য পুলিশের ডিজি, পৌর ও নগর উন্নয়ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং হাওড়ার জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন “হাওড়া স্টেশন ও তার আশেপাশের এলাকাকে ঘিরে অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের অবিলম্বে চিহ্নিত করতে হবে। আইনি জটিলতা বা মারপ্যাঁচে সময় নষ্ট করার কোনো সুযোগ নেই। অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লে আদালত নয়, সোজা সীমান্ত পার করে দেওয়া হবে।”

অনুপ্রবেশ ইস্যুতে শুভেন্দুর এই কড়া অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, রাজ্যে অবস্থানরত অবৈধ নাগরিকদের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে যাচ্ছে তার প্রশাসন।

রাজ্যের সব সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে ‘বন্দে মাতরম’ বাধ্যতামূলক করার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় এবার বড় সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। শনিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, রাজ্যের সব স্বীকৃত মাদ্রাসাতেও এখন থেকে প্রতিদিন সকালের অ্যাসেম্বলিতে এই গানটি গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

রাজ্য সরকারের মাদ্রাসা শিক্ষা ও সংখ্যালঘু বিষয়ক অধিদপ্তর থেকে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত (সহায়তা পাওয়া) এবং অনুদানবিহীন (সহায়তা না পাওয়া)—উভয় ধরনের মাদ্রাসার ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। ক্লাস শুরুর আগে সকালের প্রাত্যহিক সমাবেশে (অ্যাসেম্বলি) শিক্ষার্থীদের এই গানটি গাইতে হবে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে লেখেন, “আগের সব নির্দেশনা বাতিল করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস শুরুর আগে ভারতের জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করেছে, যা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।”

ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতীক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘বন্দে মাতরম’ গানটি দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের রাজনীতিতে একটি সংবেদনশীল ও বিতর্কের বিষয়। চলতি বছরের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগেও গানটি নিয়ে তুমুল রাজনৈতিক তর্কাতর্কি হয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসেই ভারতের বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার ‘বন্দে মাতরম’-কে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর সমতুল্য মর্যাদা দেয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এর সবকটি (ছয়টি) স্তবক গাওয়া বাধ্যতামূলক করে। কেন্দ্রের সেই নীতিই এবার পশ্চিমবঙ্গে কড়াভাবে বাস্তবায়ন করছেন শুভেন্দু অধিকারী।

বিশ্লেষকদের মতে, হাওড়া স্টেশন থেকে অনুপ্রবেশকারী তাড়ানোর ঘোষণা এবং মাদ্রাসাগুলোতে বন্দে মাতরম বাধ্যতামূলক করার এই জোড়া সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।