অমর চাঁদ গুপ্ত অপু: দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ফজলুর রহমান, সাত কর্মকর্তা-কর্মচারিসহ কয়েকটি দৈনিক পত্রিকার ৭ কর্মকর্তা-কর্মচারী, কয়েকটি দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক, প্রকাশক ও স্থানীয় প্রতিনিধিসহ ২১ জনের নামে লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। মিথ্যা তথ্য প্রদান ও তা প্রত্রিকায় প্রকাশের অভিযোগে এ লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী মো. হাবিব উদ্দিন আহমেদ, কয়লাখনি সাবেক জেনারেল ম্যানেজার ও বর্তমানে পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মান্নান পাটোয়ারী এবং কয়লা খনির সাবেক কোম্পানি সচিব/জেনারেল ম্যানেজার ও বর্তমানে পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসন) আবুল কাশেম প্রধানিয়ার পক্ষে
সুপ্রিম কোটের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবুল নাসার আজাদ গত ২৫ জুন এ নোটিশ প্রদান করেছেন। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব প্রদান করা না হলে ক্রিমিনাল লিগ্যাল অ্যাকশন নেওয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। যাদের নামে লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করা হয়েছে তারা হলেন- বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ফজলুর রহমান, উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) খান মো. জাফর সাদিক, ব্যবস্থাপক (সার্ভে অ্যান্ড মাইন পানিং) মো. মোশররফ হোসেন সরকার, ব্যবস্থাপক (বিল) মুহাম্মদ সাইদুর রহমান, ব্যবস্থাপক (মেইন্ট্যানেন্স অ্যান্ড অপারেশন) আরিফুর রহমান, ব্যবস্থাপক (পার্সোনেল) জাহিদ আনোয়ার, উপ-ব্যবস্থাপক (ডিএলও) মো. শাফায়েত আলী মিয়া, গাড়িচালক ও সিবিএ সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ, দৈনিক করতোয়ার সম্পাদক ও প্রকাশক মোজাম্মেল হক লালু, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি, দৈনিক নয়াদিগন্তের সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, প্রকাশক শামসুল হুদা, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি শেখ সাবির আলী, দৈনিক দিনকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজওয়ান সিদ্দিক, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি আফজাল হোসেন, দিনাজপুর নিউজ২৪.কম এর সম্পাদক ও প্রকাশক এএইচএম রোকমুনুর জামান, দৈনিক কালের কন্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, প্রকাশক মইনাল হোসেন চৌধুরী, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি আব্দুল কাদির, দৈনিক জনকন্ঠের সম্পাদক ও প্রকাশক আতিকুল্লাহ খান মাসুদ ও পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি শ আ ম হায়দার। উল্লেখ্য, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি পরিচালনায় স্বেচ্ছাচারিতা, উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলা, গ্রুপিং, পরস্পর দ্বন্দ্বি লিপ্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই অনিয়মে জড়িত থাকার এবং নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে খোদ কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুর রহমানে বিরুদ্ধে। কয়লা খনির প্রফিট বোনাস বিতরণে ৬০ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ তদন্তে পেট্রোবাংলা গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এসব অভিযোগ ঢাকতে খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুর রহমানের অধিনে কর্মরত ও অনুগতদের নিয়ে অভ্যন্তরীণ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। অভ্যন্তরীণ ওই কমিটি ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩ দফায় প্রফিট বোনাস বিতরণে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা চাঁদা আদায় করা হয় বলে প্রতিবেদন দেয়। এজন্য দায়ী করা হয় সে সময় খনিতে কর্মরত সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমেদ, সাবেক জেনারেল ম্যানেজার (অর্থ ও হিসাব) আব্দুল মান্নান পাটোয়ারী ও সাবেক কোম্পানি সচিব/জেনারেল ম্যানেজার আবুল কাশেম প্রধানিয়াকে। এমডি ফজলুর রহমান অভ্যন্তরীণ ওই কমিটির প্রতিবেদনটি স্থানীয় কয়েকজন সংবাদকর্মীকে দিয়ে পত্রিকায় রিপোর্ট করান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে খনির সাবেক ওই তিন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

