
জয়নাল আবেদীনঃ রংপুরের পীরগাছায় দাখিল পরীক্ষায় ভুয়া পরীক্ষার্থী, জাল সনদ ও নকল বাণিজ্যের সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিকের ওপর বর্বর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগে এক মাদরাসা সুপার এবং এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পীরগাছা থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের ইতিমধ্যে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
আক্রান্ত সাংবাদিক আব্দুল কুদ্দুছ সরকার পীরগাছা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন।
গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষকরা হলেন মাওলানা লুৎফর রহমান পীরগাছা সদর ইউনিয়নের তালুক ঈশাদ গ্রামের বাসিন্দা এবং স্বচাষ তালতলা দাখিল মাদরাসার সুপার। লুৎফর রহমান পূর্ব চন্ডিপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং রামচন্দ্র মৌজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ মে একাধিক জাতীয় পত্রিকায় ‘লাখো টাকার চুক্তিতে চলছে দাখিল পরীক্ষায় অনিয়ম’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তাম্বুলপুর দাখিল মাদরাসার অষ্টম শ্রেণির নিয়মিত শিক্ষার্থী জেনিফা আক্তার জেমি মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এবারের দাখিল পরীক্ষায় জবানোবিশ মাদরাসার পরীক্ষার্থী হিসেবে অংশ নিচ্ছে। প্রতিবেদনে জালিয়াতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ হিসেবে জেমির রেজিস্ট্রেশন নম্বর (২৩১৮৮৩০২০৭) এবং রোল নম্বর (১৭৮৯২৮) প্রকাশ করা হয়।
এই চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির খবর ফাঁসের পর থেকেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে পরীক্ষা বাণিজ্যের সাথে জড়িত সিন্ডিকেটটি। এরই জের ধরে গত বুধবার রাতে পীরগাছা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুছ সরকারের ওপর অতর্কিত ও সংঘবদ্ধ হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এতে তিনি গুরুতর জখম হন।
ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত তৎপরতা শুরু করে। সাংবাদিকের ওপর হামলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে অভিযান চালিয়ে ওই দুই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়।
পীরগাছা থানা পুলিশ জানায়, পরীক্ষার নামে এমন জালিয়াতি ও তার জেরে গণমাধ্যমকর্মীর ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। এই অপরাধ চক্রের সাথে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
