দ্রুতই বিমানবন্দর চালু করব

0
দ্রুতই বিমানবন্দর চালু করব-বিমান উপদেষ্ট

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন। তিনি বলেছেন, আমরা যত দ্রুত পারি বিমানবন্দর (এয়ারপোর্ট) চালু করব। কারণ আপনারা জানেন, এয়ারপোর্টে এই মুহূর্তে বিমান ওঠানামা বন্ধ আছে। আমরা চেষ্টা করছি যে, যত দ্রুত পারি আজকে রাতের মধ্যে ফ্লাইট ওপেন করবো- বিমান উপদেষ্টা।

আগুনের সূত্রপাত – 

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের যে অংশে কুরিয়ারের কাজকর্ম চলে, সেখান থেকে আগুনের সূত্রপাত হওয়ার কথা বলছেন কাস্টমস এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের এক নেতা। অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি খায়রুল আলম ভুইয়া মিঠুর ভাষ্য, শনিবার সরকারি ছুটির দিনে দুপুর ২টা পর্যন্ত কার্গো ভিলেজের নিয়মিত কাজকর্ম চলে।

সেখানে তখনো অনেক শ্রমিক ও আনসারসহ লোকজন ছিলেন। কিন্তু আগুন লাগার পর আনসারসহ অন্যরা সবাইকে সরিয়ে দেন। তখন বলা হয়, এই গুদামে গোলাবারুদসহ রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে; বিস্ফোরণ ঘটতে পারে; সবাই সরে যান। শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটির দিনে কার্গো ভিলেজের নিয়মিত কাজকর্ম বন্ধ থাকলেও কুরিয়ার শাখায় আধাবেলা কাজকর্ম চলে। এ কারণে এক শিফটের কর্মীরা আগেই বের হয়ে গিয়েছিলেন। পরবর্তী শিফটে যাদের আসার কথা ছিল, তাদের অনেকে তখনও ঢোকেননি।

আবার সারা দিনের শিফটে যাদের কাজ করার কথা ছিল, তাদের তখন দুপুরের খাবারের বিরতি চলছিল। এ কারণে আগুন লাগার সময় সেখানে এয়ারলাইন্স ও এজেন্টদের কর্মী কম ছিল। মিঠু বলেন, কুরিয়ার গুদামের একপাশে রাসায়নিকের গুদাম রয়েছে। দেশের পোশাক খাতসহ বিভিন্ন শিল্পের জন্য আনা অনেক রাসায়নিক আকাশপথে আমদানি করা হয়।

তিনি দাবি করেন, “আগুন নেভাতে এসে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ৮ নম্বর ফটকে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে। অনুমতিজনিত জটিলতায় তারা ঢুকতে পারছিলেন না।”

কার্গো ভিলেজ লম্বায় আনুমানিক ৩০০ মিটার। বিমানবন্দরের উত্তর-পূর্ব কোনায় এর অবস্থান। বিমানের কার্গো শাখার তিনজন কর্মী দাঁড়িয়েছিলেন। তারা বলছেন, কুরিয়ার শাখা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এরপর তারা দৌড়ে বেরিয়ে আসেন।

আমদানির কার্গো কমপ্লেক্সের সামনে উড়োজাহাজ পার্কিং করার ১০ থেকে ১৪ নম্বর বে। আগুন লাগার পর এখানে রাখা কয়েকটি উড়োজাহাজ সরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন বিমানের কর্মীরা। কুরিয়ার সেকশনে থাকা বিমানের কর্মীরা বলছেন, কুরিয়ার সেকশনের সেডের বাইরেও অনেক মালামাল উড়োজাহাজ থেকে নামিয়ে রাখা হয়েছিল; সেগুলোও পুড়ে গেছে।

সবশেষ পরিস্থিতি-

সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে পরপর অনেকগুলো অ্যাম্বুলেন্স বের হয়ে আসে ৮ নম্বর ফটক দিয়ে। ওই ফটকের সামনে থেকে সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ছে জানিয়ে ঘোষণায় বলা হচ্ছে, ৮ নম্বর ফটকসংলগ্ন গুদামে জ্বালানি রয়েছে।