‘হ্যাঁ’ ভোটেই আগামীর বাংলাদেশ: জাতির উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টার ঐতিহাসিক ডাক

0
‘হ্যাঁ’ ভোটেই আগামীর বাংলাদেশ: জাতির উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টার ঐতিহাসিক ডাক

আজকের ডেস্কঃ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদানের মাধ্যমে এক নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় শামিল হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে তিনি এই আহ্বান জানান। বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সম্প্রচারিত এই ভাষণে তিনি রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা এবং ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করতে গণভোটের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন।

ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, “গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার অর্থ হলো ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ। এখন থেকে সব ক্ষমতা আর একজন প্রধানমন্ত্রীর হাতে কুক্ষিগত থাকবে না। কোনো ব্যক্তি ১০ বছরের বেশি সময় প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন না। এটি নিশ্চিত করতেই আপনাদের সম্মতি প্রয়োজন।”

অধ্যাপক ইউনূস তাঁর ভাষণে গণভোটের গুরুত্ব বোঝাতে বেশ কিছু মূল পয়েন্ট তুলে ধরেন:

সংবিধান রক্ষা: সরকার চাইলেই আর একক সিদ্ধান্তে সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না; যেকোনো মৌলিক পরিবর্তনের জন্য জনগণের সরাসরি সম্মতি বা গণভোট লাগবে।

তত্ত্বাবধায়ক ও নির্বাচন কমিশন: তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকারি ও বিরোধী দল মিলেমিশে কাজ করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা তৈরি হবে।

সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা: বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হবেন, যা সংসদকে আরও কার্যকর করবে।

বিচার বিভাগ ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা: বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো অপরাধীকে রাষ্ট্রপতি চাইলেই একক সিদ্ধান্তে ক্ষমা করতে পারবেন না।

সংসদে উচ্চকক্ষ: রাষ্ট্র পরিচালনায় বিশেষজ্ঞ ও গুণীজনদের অন্তর্ভুক্ত করতে পার্লামেন্টে ‘উচ্চকক্ষ’ গঠনের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে এই সংস্কার তালিকায়।

প্রধান উপদেষ্টা দেশবাসীকে বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়নমুক্ত সমাজ গড়ার স্বপ্নে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “নতুন বাংলাদেশ গড়ার চাবি এখন আপনাদের হাতে। ‘হ্যাঁ’ ভোট মানেই হলো নতুন দিনের দ্বার উন্মোচন করা। রাষ্ট্রকে আপনার প্রত্যাশামতো গড়ে তুলতে ১২ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রে আসুন এবং ‘হ্যাঁ’ চিহ্নে সিল দিন।”

ভাষণের শেষাংশে তিনি উন্নত ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে দল-মত নির্বিশেষে সকলকে এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানান।