বিএনপি জনবান্ধব রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি জনবান্ধব সরকার: ত্রাণ মন্ত্রী দুলু

0
বিএনপি জনবান্ধব রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি জনবান্ধব সরকার: ত্রাণ মন্ত্রী দুলু

জয়নাল আবেদীনঃ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবীব দুলু বলেছেন, বিএনপি কেবল একটি জনবান্ধব রাজনৈতিক দলই নয়, এটি একটি জনবান্ধব সরকার। জনগণের যেকোনো দাবি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে।

গতকাল সোমবার দুপুরে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে রংপুর বিভাগের ৮ জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, রংপুর অঞ্চল খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এখানকার শ্রম সস্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও বেশ ভালো। প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে রংপুরে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে শিল্প-কারখানা স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাই দেশের অন্য অঞ্চলের মতো রংপুর বিভাগেরও সমহারে উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।

তিস্তা নদী প্রসঙ্গে আবেগঘন কণ্ঠে মন্ত্রী বলেন, “আমি তিস্তাপাড়ের সন্তান, তিস্তা আন্দোলনের সাথে আমি সরাসরি জড়িত। রংপুরের দুই কোটি মানুষের আকাঙ্ক্ষা এই নদীকে ঘিরে।” তিনি আরও জানান, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া বিক্ষিপ্ত কোনো প্রকল্প তিস্তায় আর বাস্তবায়ন হবে না। সমন্বিত প্রকল্পের মাধ্যমে নদী শাসন ও খনন করা হবে। ইতিমধ্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুই মন্ত্রীর সাথে এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে।

আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে প্রশাসনের সাথে আলোচনার মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং মাদক নির্মূলকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারি দপ্তরগুলোর বিদ্যমান ঘাটতি পূরণ এবং অন্যান্য বিভাগের চলমান বড় প্রকল্পগুলোতে রংপুরকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

গণঅভ্যুত্থানে নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারের মামলা করার অধিকার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে আসাদুল হাবীব দুলু বলেন, “যেকোনো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মামলা করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। কারো সাথে অন্যায় হলে তারা দেশের প্রচলিত আইনের আশ্রয় নিতেই পারেন।”

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান এবং রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামুসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।