বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ “চাঁদাবাজি করবেন আবার আপনাকে চাঁদাবাজ বলা যাবে না—এমন দ্বিচারিতা চলবে না। হয় চাঁদাবাজি ছাড়ুন, না হয় চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত হতে প্রস্তুত থাকুন।” বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় এভাবেই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
ঢাকা-১২ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত প্রার্থী সাইফুল আলম খানের সমর্থনে আয়োজিত এই জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি দেশের বিদ্যমান অস্থিরতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোকপাত করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশ আজ চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির জ্বালায় জর্জরিত। কৃষক থেকে শুরু করে পরিবহন মালিক—সবাই আজ অতিষ্ঠ। তিনি বলেন, “কৃষকের পণ্য ঢাকায় আসতে দাম চারগুণ হয়ে যায় শুধু মাঝপথে চাঁদাবাজির কারণে। এই অশুভ সিন্ডিকেট সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে। আমরা স্পষ্ট করে বলছি, নির্বাচনের পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকেই দেশের চিত্র বদলে যাবে। ১১ দলীয় ঐক্য ক্ষমতায় গেলে ৯০ ভাগ চাঁদাবাজের হাত অবশ হয়ে যাবে। বাকি ১০ ভাগকেও কঠোরভাবে দমন করা হবে। তখন চাঁদাবাজ কার সন্তান বা কার ভাই—তা দেখা হবে না।”
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশন ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিলেও মাঠের আলামত এখনো সন্তোষজনক নয়। বিভিন্ন স্থানে হামলা, প্রচারণায় বাধা এবং অফিস পুড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। জনগণের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হলে সরকারকে এর দায়ভার নিতে হবে।”
নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “গালভরা গণতন্ত্রের বুলি ছেড়ে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক পথে হাঁটুন। গায়ের জোরে বা পুরোনো কায়দায় নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে দেশের যুবসমাজ আর ঘুমিয়ে থাকবে না।”
ডা. শফিকুর রহমান প্রতিশ্রুতি দেন যে, চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পারলে দেশ দ্রুত উন্নতির শিখরে পৌঁছাবে। তিনি কেবল প্রশাসনের ওপর নির্ভর না করে রাজনৈতিকভাবেও মাঠ পর্যায়ে চাঁদাবাজি প্রতিরোধের ঘোষণা দেন।
ঢাকা-১২ আসনের প্রার্থী সাইফুল আলম খানের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা-১২ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থী সাইফুল আলম খান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ, ডাকসু ভিপি মো. আবু সাদিক, এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তরের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

