শান্তর সেঞ্চুরি ও ফিজ-ম্যাজিকে কিউই বধ: সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

0
শান্তর সেঞ্চুরি ও ফিজ-ম্যাজিকে কিউই বধ: সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে (বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়াম) যেন লেখা হলো টাইগারদের এক নতুন বীরত্বগাথা। নাজমুল হোসেন শান্তর ধ্রুপদী সেঞ্চুরি আর মোস্তাফিজুর রহমানের বোলিং তাণ্ডবে নিউজিল্যান্ডকে সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে ৫৫ রানে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। এই দাপুটে জয়ের ফলে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ নিজেদের করে নিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই ঘোর বিপদে পড়েছিল স্বাগতিকরা। স্কোরবোর্ডে মাত্র ৯ রান তুলতেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান। কিউই পেসার উইল ও’রোর্কের তোপে যখন খাদের কিনারায় দল, ঠিক তখনই ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হন নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাস।

চাপের মুখে ক্যারিয়ারের চতুর্থ ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে নেন শান্ত। ১১৯ বলে ১০৫ রানের এক অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলেন তিনি, যাতে ছিল ৯টি চার ও ২টি ছক্কার মার।

সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়েও লিনক্সের বলে ৭৬ রানে (৯১ বল) বোল্ড হন লিটন। তবে শান্তর সাথে তার ১৬০ রানের সেই মহাকাব্যিক জুটিই বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়।

তাওহীদ হৃদয়ের অপরাজিত ৩৩ ও মিরাজের ২২ রানের ক্যামিওতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২৬৫ রানের লড়াকু পুঁজি পায় বাংলাদেশ।

২৬৬ রানের লক্ষ্যে খেলতে নামা নিউজিল্যান্ডকে শুরু থেকেই চাপে রাখেন ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা ‘কাটার মাস্টার’ মোস্তাফিজুর রহমান।

নিজের চিরচেনা রূপে ফিরে মোস্তাফিজ একাই ধসিয়ে দেন কিউইদের ব্যাটিং লাইনআপ। ৪৪.৫ ওভারে মাত্র ২১০ রানেই অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড। ও’রোর্কেকে বোল্ড করে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ষষ্ঠবারের মতো ৫ উইকেট নেওয়ার অনন্য কীর্তি গড়েন তিনি।

নিউজিল্যান্ডের পক্ষে একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়েছিলেন ডিন ফক্সক্রফ্ট। তার ৭৫ রানের (৭২ বল) ইনিংসটি সফরকারীদের জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছিল। এছাড়া ওপেনার নিক কেলি করেন ৫৯ রান। তবে নাহিদ রানা ও মিরাজের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শেষ রক্ষা হয়নি তাদের। মিরাজের বলে ফক্সক্রফ্ট বিদায় নিতেই নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের রাজকীয় সিরিজ জয়।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ: ২৬৫/৮ (৫০ ওভার) | শান্ত ১০৫, লিটন ৭৬; ও’রোর্কে ৩/৪০।

নিউজিল্যান্ড: ২১০/১০ (৪৪.৫ ওভার) | ফক্সক্রফ্ট ৭৫, কেলি ৫৯; মোস্তাফিজ ৫/৪৬।

ফল: বাংলাদেশ ৫৫ রানে জয়ী ও সিরিজ জয়ী (২-১)।