বোদায় নিম্নমানের রাস্তার কাজ ও ঘুস কাণ্ড: দেড় লাখ টাকাসহ এলজিইডি প্রকৌশলী আটক

0
বোদায় নিম্নমানের রাস্তার কাজ ও ঘুস কাণ্ড: দেড় লাখ টাকাসহ এলজিইডি প্রকৌশলী আটক

পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় রাস্তার নির্মাণকাজ তদারকির সময় ব্যাগে অবৈধ লেনদেনের টাকা রাখার অভিযোগে নূর ই আকরাম নামে এলজিইডির এক উপসহকারী প্রকৌশলীকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে বোদা উপজেলার সাকোয়া গিদালপাড়া এলাকায় এ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। আটক নূর ই আকরাম উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত।

স্থানীয় সূত্রের তথ্যানুযায়ী, বোদা উপজেলার সাকোয়া-নয়াদীঘি ভায়া বোয়ালমারী পাকা রাস্তার নির্মাণকাজ চলছিল। কাজ শুরু থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশে অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ তোলে এলাকাবাসী। সাইটে তদারকির দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী নূর ই আকরামের কাছে বারবার মানসম্মত কাজের দাবি জানালেও তিনি কোনো তোয়াক্কা করেননি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে কাজের অনিয়ম চরম আকার ধারণ করলে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা একজোট হয়ে কাজের প্রাক্কলন (এস্টিমেট) ও সরকারি কাগজপত্র দেখতে চান। এতে চরম বিচলিত হয়ে পড়েন ওই প্রকৌশলী এবং তড়িঘড়ি করে ঘটনাস্থল থেকে কেটে পড়ার চেষ্টা করেন।

প্রকৌশলীর সটকে পড়ার চেষ্টা দেখে স্থানীয়রা তাকে ধাওয়া করে পথ আটকে দেয়। এরপর তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করতে চাইলে তিনি প্রচণ্ড বাধা দেন এবং বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে শত শত উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। পরিস্থিতি থমথমে হয়ে উঠলে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক থানা পুলিশকে খবর দেয়।

সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তদারককারী প্রকৌশলীর ব্যাগ ও পকেট তল্লাশি করে। তল্লাশিতে তার ব্যবহৃত ব্যাগ থেকে নগদ ১ লাখ টাকা এবং পকেট থেকে আরও ৫০ হাজার টাকা—মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। ঘুস ও অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে উপার্জিত টাকা বহন করার সুস্পষ্ট প্রমাণ মেলায় পুলিশ তাকে আটক করে থানা হেফাজতে নিয়ে যায়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত জনতার সামনেই উদ্ধারকৃত টাকার উৎস এবং কর্মস্থলে এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ সাথে রাখার কারণ জানতে চাওয়া হলে অভিযুক্ত কর্মকর্তা কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। তবে আটক নূর ই আকরাম দাবি করেন, “উদ্ধারকৃত টাকাগুলো আমার নিজের সঞ্চিত এবং ব্যক্তিগত জরুরি কাজে ব্যবহারের জন্য সঙ্গে রেখেছিলাম। আমি কোনো অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িত নই।”

বোদা থানা পুলিশ জানায়, সরকারি কোনো কর্মকর্তা অন ডিউটিতে থেকে এ ধরনের বিপুল নগদ টাকা বহনের বৈধতা প্রমাণ করতে না পারলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। অভিযুক্তকে পুলিশ হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বোদা উপজেলা প্রকৌশলী ফিরোজার রহমান জানান, “সরকারি দায়িত্ব পালনকালে কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে বা ব্যাগে এভাবে এত বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা বহনের কোনো নিয়ম বা সুযোগ নেই। বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। তদন্তে তার বিরুদ্ধে আনা ঘুস গ্রহণ বা অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় নিয়ম অনুযায়ী কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত উপসহকারী প্রকৌশলীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং চলমান রাস্তার নির্মাণকাজ সিডিউল অনুযায়ী মানসম্মতভাবে সম্পন্ন করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সাকোয়া ও গিদালপাড়ার অধিবাসীরা।