বরিশাল প্রতিনিধিঃ বরিশালের বাবুগঞ্জে দিনদুপুরে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-মুখ বেঁধে সর্বস্ব লুটে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ও ভেতরে ওৎ পেতে থাকা যাত্রীবেশী ছিনতাইকারী চক্র এ অপরাধ সংঘটিত করে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার রাকুদিয়া নতুন হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী মিতু আক্তার বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের ৩০নং মধ্য রাকুদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা এবং স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ আলম হাওলাদারের মেয়ে।
শিক্ষিকা মিতু আক্তার জানান, বৃহস্পতিবার সকালে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বরিশালের পিটিআই (প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট) যাওয়ার জন্য রাকুদিয়া নতুন হাট এলাকা থেকে একটি সিএনজিতে ওঠেন। সিএনজিতে আগে থেকেই যাত্রীবেশী ছিনতাইকারীরা বসে ছিল। যানটি কিছুদূর এগোতেই তারা দেশীয় অস্ত্রের মুখে তাঁকে জিম্মি করে ফেলে। এ সময় ছিনতাইকারীরা ওড়না দিয়ে তাঁর হাত ও মুখ শক্ত করে বেঁধে ফেলে এবং গলায় থাকা এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন, হাতের আংটি ও হ্যান্ডব্যাগে থাকা নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেয়।
লুটপাট শেষে ছিনতাইকারীরা সিএনজি ঘুরিয়ে শিকারপুর সেতুর ঢালের এক মাদ্রাসা সংলগ্ন নির্জন স্থানে ভুক্তভোগীকে চলন্ত গাড়ি থেকে ফেলে দিয়ে দ্রুত চম্পট দেয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি উদ্ধার পান।
ঘটনার সতত্য স্বীকার করে বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অপরাধীদের গতিপথ ও ক্লু উদ্ধারে সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার কাজ শুরু হয়েছে।
ওসি আরও জানান, ঘটনার সময় ইচলাদী টোল প্লাজার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ‘বরিশাল মেট্রো ১১-২০৮৪’ নম্বরের একটি সিএনজি অটোরিকশাকে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে। ওই নির্দিষ্ট সিএনজি ও চালকের সূত্র ধরে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যদের শনাক্ত এবং লুটের মালামাল উদ্ধারসহ তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

