বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ ইসলামী ব্যাংককে আবারও সাবেক ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত চক্রের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদীয় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এই ব্যাংক রক্ষায় বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা রাজপথে নামতে প্রস্তুত রয়েছে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “ইসলামী ব্যাংক নিয়ে টানাটানি করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।”
আজ বুধবার (০৩ জুন) রাতে রাজধানীর মিরপুরের একটি কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ব্যাংকিং খাতের চরম অনিয়মের খতিয়ান তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের অন্যতম প্রধান এই আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে একযোগে ৩৪ হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। এখন আবারও ফ্যাসিবাদী কায়দায় ব্যাংক খাতকে পঙ্গু করার অপচেষ্টা চলছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কঠোর সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ইসলামী ব্যাংকের কোনো ক্ষতি হলে দেশের গোটা অর্থনীতি মারাত্মক সংকটে পড়বে। আমরা সরকারকে ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছি। জনগণের স্বার্থে জামায়াত সবসময় শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করবে, আমরা কখনো ‘গৃহপালিত’ বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকব না।”
দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান দেশের বর্তমান সংকটগুলোকে কাঠামোগত ও নীতিগত ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন ইরান, লেবানন ও গাজাসহ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষকে। দেশে গ্যাসের মজুত কমে গেলেও সরকার নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও উত্তোলনে রহস্যজনকভাবে স্থবির হয়ে আছে। গ্যাসের দাম এক লাফে ৬০০-৭০০ টাকা বাড়িয়ে মাত্র ৫০ টাকা কমানোকে তিনি “জাতির সঙ্গে তামাশা” বলে আখ্যা দেন।
বিগত সরকারের পলায়নপর রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “একদল পাশের দেশে পালিয়েছে, বাকিরা কোথায় যাবে?” চাঁদাবাজদের ‘বসন্তের কোকিল’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, দেশের ৩০০ জন সংসদ সদস্য যদি ঐক্যবদ্ধভাবে কড়া সিদ্ধান্ত নেন, তবে দেশ থেকে চাঁদাবাজি চিরতরে দূর করা সম্ভব।
দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতিতে সাধারণ মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত। এই পরিস্থিতিতে জনগণের অধিকার ও একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে জামায়াতে ইসলামী খুব শিগগিরই রাজপথে নতুন আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলে জানান তিনি।
ঢাকা মহানগরী উত্তরের নেতা রায়হানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য শাহ আলম তুহিন এবং অধ্যাপক আনোয়ারুল করিম। অনুষ্ঠানে দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

