ক্রীড়া প্রতিবেদকঃ স্নায়ুচাপের লড়াই, শ্বাসরুদ্ধকর টাইব্রেকার আর শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চ; সব বাধা টপকে আবারও দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরলো বাংলাদেশ। মালদ্বীপের মালেতে অনুষ্ঠিত সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে পরাজিত করে শিরোপা অক্ষুণ্ণ রেখেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা। দুই দলই আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখলেও গোলের দেখা পায়নি কেউ। প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয় অর্ধে বেশ কিছু সুযোগ তৈরি হলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষ হয় ০-০ সমতায়। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচ সরাসরি গড়ায় ভাগ্যনির্ধারণী টাইব্রেকারে।
টাইব্রেকারের শুরুতেই টসে জিতে ভারত আগে শট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে বাংলাদেশের গোলরক্ষক মাহিন প্রথম শটটি অসামান্য দক্ষতায় রুখে দিয়ে দলকে মানসিকভাবে এগিয়ে দেন। এরপর বাংলাদেশের পক্ষে একে একে বল জালে জড়ান মোর্শেদ, চন্দন,ফাহিম
তিনটি সফল শটে বাংলাদেশ লিড ধরে রাখলেও চতুর্থ শটে ঘটে বিপত্তি। বাংলাদেশের স্যামুয়েল যখন শট নিতে প্রস্তুত, তখন ভারতের গোলরক্ষক চোটের অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন। দীর্ঘ চিকিৎসার পর খেলা শুরু হলে মনঃসংযোগ হারানো স্যামুয়েলের শটটি ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ফলে চার শট শেষে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-৩।
শেষ শটে চরম নাটকীয়তা দেখা দেয়। ভারতের পক্ষে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা শট নিতে এসে বল পোস্টের অনেক উপর দিয়ে মেরে সুযোগ নষ্ট করেন। বাংলাদেশের সামনে তখন জয়ের সমীকরণ: শেষ শটে গোল মানেই চ্যাম্পিয়ন।
এমন কঠিন চাপের মুখে পেনাল্টি নিতে আসেন আমেরিকান প্রবাসী বাংলাদেশি ফুটবলার রোনান। অসীম সাহসিকতায় বল জালে জড়িয়ে উল্লাসে মাতান গোটা দলকে। ৪-৩ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হওয়ার সাথে সাথেই মালে স্টেডিয়ামে শুরু হয় লাল-সবুজের বিজয়োৎসব।
ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বসিত বাংলাদেশের অধিনায়ক মিঠু চৌধুরী বলেন, “আমরা শুরু থেকেই বিশ্বাস করেছিলাম আমরা ফাইটার। শেষ পর্যন্ত লড়েছি এবং তার ফল পেয়েছি। ভারতকে ফাইনালে হারানোটা সবসময়ই আমাদের জন্য অন্যরকম এক আনন্দের এবং তৃপ্তির।”
এই জয়ের মাধ্যমে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জয়ের গৌরব অর্জন করলো বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে নিজেদের ক্রমবর্ধমান আধিপত্যের প্রমাণ দিয়ে তরুণ এই ফুটবলাররা দেশের জন্য বয়ে আনলেন অনন্য এক সাফল্য।

