‘নিখোঁজের চার দিন পর ডোবা থেকে বাবুর মরদেহ বের করে আনল কুকুরটি’

0

বাংলাদেশ প্রতিবেদক: শেরপুরের শ্রীবর্দীতে ইটভাটা মালিকের পারিবারিক দ্বন্দ্বে প্রাণ হারিয়েছেন পাহারাদার সোহেল ওরফে বাবু। নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর শনিবার ২৮ অক্টোবর সকালে কচুরিপানায় ভরা ডোবায় বাবুর মরদেহ কুকুর টানাটানি করায় এলাকাবাসী দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়।

ইটভাটা ও বাড়ির মাঝামাঝি জায়গা শ্রীবর্দী-নিলীয়া পাকা সড়কের পাশে কচুরিপানা ভরা একটি ডোবা থেকে পাওয়া যায় বাবুর মরদেহ। এদিকে শনিবার মধ্যরাতে বাবুর বাবা গোলাপ আলী বাদী হয়ে শ্রীবর্দী থানায় ৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। রাতেই ইটভাটা মালিকের দুই ছেলে ও ম্যানেজারকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

যে ইটভাটায় অন্যের সম্পদ পাহারা দিতেন বাবু সেই ইটভাটার মালিকের পারিবারিক কলহেই প্রাণ দিতে হলো তাকে।

বাবুর স্বজনরা জানান, জনৈক জালালের ইটভাটায় আড়াই বছর যাবত পাহারাদারের কাজ করত বাবু। জালালের দুই স্ত্রী ও তার সন্তানদের সঙ্গে পারিবারিক দ্বন্দ্ব মাস ছয়েক আগে থানা-পুলিশ পর্যন্ত গড়ায়। ওই সময় জালালের পরম বিশ্বস্ত পাহারাদার বাবুকে নির্দেশনা দেয়া ছিল তার হুকুম ছাড়া তার সন্তানদের কেউই যেন ইটভাটা থেকে ইট নিতে না পারেন। মালিকের নির্দেশনা পালন করতে গিয়ে ছেলেদের রোষানলে পরে খুন হন বাবু। একমাত্র উপার্জন করা মানুষটিকে হারিয়ে পরিবারটি এখন দিশেহারা। এখন তাদের একটাই চাওয়া বাবু হত্যার সঠিক বিচার।

রোববার (২৯ নভেম্বর) শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিল্লা হোসেন সময় সংবাদকে জানান, তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। শনিবার সকালে মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর গভীর রাতে নিহতের বাবা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। রাতেই এজাহারভুক্ত তিন আসামি ইটভাটা মালিক জালালের ছেলে হাফিজুর, সাদা ও ইটভাটার ম্যানেজার ইস্রাফিলকে গ্রেফতার করা হয় এবং বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।